বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি

এক লাফে বাংলাদেশে বিপুল দাম বাড়ল পেট্রোপণ্যের।জ্বালানির দামে ভর্তুকি তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সে কারণেই আচমকা দাম বৃদ্ধি।  পেট্রল এবং ডিজেলের লিটার প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে এই দাম। অক্টেন, কেরোসিনেরও দাম বেড়েছে। বাংলাদেশে এক লিটার পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪৪ টাকা।

আগে ছিল ৮৬ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা। লিটার প্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৪ টাকা। আগে এক লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৮০ টাকা। এখন তা বেড়ে হল ১২৪ টাকা। অক্টেনের দাম লিটার প্রতি বেড়েছে ৪৬ টাকা। আগে এক লিটার অক্টেনের দাম ছিল ৮৯ টাকা। এখন তা বেড়ে হল ১৩৫ টাকা। কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি বেড়েছে ৩৪ টাকা। এই দাম বাড়ার কারণে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের।

  শ্রীলঙ্কার মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার কোনও ইঙ্গিত নেই। তবে শনিবার সকালে বাংলাদেশ সরকার পেট্রোপণ্যের দাম এক ধাক্কায় ৩০-৪০ টাকা বাড়ানোয় সে দেশে আর্থিক সঙ্কটের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ঘটনাচক্রে, এপ্রিলের গোড়ায় ভারতের আর এক প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় আর্থিক সঙ্কটের সূচনার প্রাথমিক বার্তাও এসেছিল জ্বালানির তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমেই।

চিনা তহবিলপুষ্ট প্রকল্প আর ঋণগ্রহণে ব্যস্ত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের সরকার তা নিয়ে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দিতে চায়নি। কিন্তু হঠাৎ কেন ভর্তুকি তুলে দিল সরকার? দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত ছ’ মাসে পেট্রোপণ্য বিক্রিতে আট হাজার ১৪ কোটি টাকা লোকসান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। কিন্তু অচিরেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি আর গণপরিবহণের ভাড়ার হার বাড়তে থাকায় তৈরি হয় জনবিক্ষোভ।

এর পর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিলোন পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন’ এক ধাক্কায় পেট্রলের দাম এক ধাক্কায় ৮২ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১১১ টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে। শ্রীলঙ্কার শক্তি বিষয়ক মন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসাকারা জানিয়েছিলেন, বিপুল লোকসান সামাল দিতেই বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ। তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম বাড়ছে জ্বালানির। আমদানি স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হয়েই জ্বালানির দাম বাড়াল সরকার।

জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পেট্রোপণ্যের দাম কমানো যায় কি না, সেই বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এর আগে ২০১৬ সালে পেট্রোপণ্যের দাম কমেছিল সে দেশে। ঘটনাচক্রে, মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার মতোই জ্বালানি তেলে ‘রেশনিং’ ব্যবস্থাও চালু হয়েছে বাংলাদেশে। মোটরবাইক এবং গাড়ি-পিছু সর্বোচ্চ কত লিটার জ্বালানি কেনা যাবে, তা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। দাম বাড়ছে শুনে রাত ১০টায় পেট্রল পাম্পে মোটরবাইকের জ্বালানি অক্টেনের জন্য লাইন দিয়েছিলেন আতাউর শেখ।

রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে পেয়েছেন মাত্র ১০০ টাকার অক্টেন। তিনি বলেছেন, ‘‘এ ভাবে দাম বাড়ালে গরিবরা মরবে। এখন আমাদের ধুঁকে ধুঁকে মরার পালা।’’আতাউরের মতো অনেকে শুক্রবার রাতে একটু সস্তায় জ্বালানি কেনার জন্য লাইন দিয়েছিলেন। প্রত্যেক গ্রাহককে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হয়নি। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু হয় পেট্রল পাম্পগুলিতে। তার পর থেকেই ভিড় কমতে থাকে। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার রাস্তায় কমে গিয়েছে বাস।

দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তবু বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামে গণপরিবহণ চলাচল কমে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনও পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক না দিলেও বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে পরিবহণ কর্মীরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।