বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ রাজনীতিতে আমরা দাদার অনুগামী

বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ রাজনীতিতে  আমরা দাদার অনুগামী

আজবাংলা     দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে জল্পনা চলছে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বৃদ্ধি হচ্ছে বলে চর্চা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। এমনও অভিযোগ উঠছিল, বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগসাজোশ আছে। বারবারই এমন অভিযোগ উঠেছে, আর তিনি খণ্ডন করেছেন। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূলের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। 

নন্দীগ্রাম আন্দোলনে শুভেন্দু অধিকারী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সময় খবর রটেছিল, রাসায়নিক কারখানা নির্মাণের জন্য চাষীদের থেকে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করেছে বাম সরকার। শুভেন্দু তখন তৃণমূলের ‘ভূমি উচ্ছেদ বিক্ষোভ কমিটি’তে একত্রিত করেছিলেন স্থানীয়দের। আর আজ  সেই শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে থেকেও তৃণমূলে নেই।  

দলের মধ্যে থেকেও এই দাদার অনুগামীদের কর্মসূচি নিয়ে টু শব্দটি করছেন না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, বেশ কিছু ক্ষেত্রে বাধাও এসেছে এই অনুগামীদের কর্মসূচিতে। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন শুভেন্দু।

তবে সেভাবে দলীয় ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির থাকছেন না বলেই সূত্রের খবর। কিছু দিন আগেই দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু, এই নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। অথচ তিনি তখন নিজের বাড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু কেন দলে থাকা সত্বেও দাদার অনুগামীদের কর্মসূচি ক্রমশ বেড়ে চলেছে?

এই নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।সরকারি বা দলীয় সাহায্যের বাইরে জঙ্গলমহল-সহ নানা জায়গায় শুভেন্দু অধিকারী নিজে উদ্যোগ নিয়ে ত্রাণ পাঠিয়েছেন। ত্রাণের বিলিবন্টণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দায়িত্বভার পরিবর্তন করেছেন। সেই থেকেই শুভেন্দুর ছবি গলায় ঝুলিয়ে সামাজিক কর্মসূচি চলছে।

ঝাড়গ্রামে সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির না থেকে হুল দিবসে বেসরকারি আনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শুভেন্দু। সেই সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ওই ঘটনায় বিতর্ক দেখা দিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। এমনকী কোনও অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রামের নায়ক গিয়েছেন সেখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতিও টের পাননি। পরে শুনেছেন অন্যদের মুখে।

এভাবেই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় শুভেন্দু চলেছেন এগিয়ে। প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাসখানেক আগে গঠিত হয়েছে তৃণমূলের নতুন রাজ্য কমিটি। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ,ওই কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তার পর থেকেই তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এমনকি দলীয় কোনও কর্মসূচিতে দেখা মিলছে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাকে। জেলায় বসে দপ্তরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত তিনি। পাশাপাশি সাহায্য প্রদান করছেন সাধারন মানুষকে। অন্যদিকে, করোনা হাসপাতাল গুলোতেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নতুন করে শুভেন্দু অধিকারীর এই অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।