প্রবল বর্ষণে ভাসছে উত্তরবঙ্গ,দক্ষিণবঙ্গের বর্ষা নিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

প্রবল বর্ষণে ভাসছে উত্তরবঙ্গ,দক্ষিণবঙ্গের বর্ষা নিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

একদিকে যখন প্রবল বর্ষণে ভাসছে উত্তরবঙ্গ, অন্যদিকে তখন বর্ষা দুর্বল দক্ষিণবঙ্গে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা শুরু হলেও গুমোট পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এর মূল কারণ, দুর্বল মৌসুমী বায়ু। প্রাক বর্ষার মরশুমেও সেভাবে বৃষ্টির দেখা মেলেনি দক্ষিণবঙ্গে।

চলতি সপ্তাহেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কেবলমাত্র। অথচ উত্তরবঙ্গে প্রায় সবকটি জেলাতেই নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে।  সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা। গুমোট গরমে নাজেহাল শহরবাসী। শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে ৮৩ শতাংশ।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ৬৬ শতাংশ। কলকাতায় এদিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। দুপুরের পর থেকে শহরের একাধিক এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হবে শহরে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করতে চলেছে। এদিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে। ফলে অস্বস্তি কিছুটা কমবে। দক্ষিণবঙ্গে প্রায় সমস্ত জেলাতেই রয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও। 

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে নাগাড়ে চলছে ভারী বর্ষাণ। একটানা বৃষ্টিপাতের জেরে পর্যটন স্থলগুলিতে আটকে পড়েছে বহু পর্যটক। অতিবৃষ্টির জেরে একাধিক জায়গায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে ধস নেমে লন্ডভন্ড অবস্থা সিকিমের। ক্ষতিগ্রস্ত সিকিমের স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও। ধসে পড়েছে একাধিক বাড়ি, ভেঙেছে রাস্তা।

বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় চরতোর্সা, বুড়ি তোর্সা ও সঞ্জয় নদীর ডাইভারশন জলের তোড়ে উড়ে গিয়েছে। বীরপাড়া-ফালাকাটা এবং ফালাকাটা-কোচবিহার ছাড়া অন্য সমস্ত সড়ক কার্যত জলমগ্ন হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে টোটোপাড়াও। ধসের জেরে গ্যাংটক থেকে উত্তর সিকিমের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বেহাল হয়ে গিয়েছে। আটকে পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক। গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়া ছাড়াও গাড়ির উপরে পাথর পড়ে সব মিলিয়ে মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সিকিমের বাসিন্দা পাঁচ জন। তার মধ্যে তিন জন পুলিশ কর্মী।

জোড়থাঙের কাছে মাঝিটারে গাড়ির উপরে পাথর পড়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের পাশাাশি অবশেষে স্বস্তি ফিরল দিল্লিতে। রাজধানী শহরে শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। গত ২ জুন থেকে সেখানে তাপপ্রবাহ চলছিল। অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামল দিল্লিতে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি নয়ডা, গুরুগ্রামেও বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিনদিন বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একইসঙ্গে ২৯ জুন পর্যন্ত তাপপ্রবাহের কোনও পূর্বাভাস নেই বলেও জানিয়েছে মৌসম ভবন। যদিও তাপমাত্রর কোনও পরিবর্তন হয়নি। ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে শুক্রবারের তাপমাত্রা।