বিজেপিতে গেলেন বাংলায় কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদ

বিজেপিতে গেলেন বাংলায় কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদ

উত্তরপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা কংগ্রেসের। রাহুল গান্ধীর আরও এক ঘনিষ্ঠ নেতা কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক প্রাক্তন সাংসদ জিতিন প্রসাদা যোগ দিলেন বিজেপিতে। বুধবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের উপস্থিতিতে পদ্মশিবিরে যোগ দিলেন তিনি।

আগামী বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। তার আগে জিতিনের বিজেপি যোগ নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা কংগ্রেসের। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জিতিনকে বাংলার পর্যবেক্ষক করে এআইসিসি। কিন্তু ভোটে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। প্রচারের একটা বড় সময় তিনি বেপাত্তা ছিলেন।  তবে জিতিন যে দল পরিবর্তন করতে পারেন, তা একেবারেই অজানা ছিল না কংগ্রেসের কাছে।

গত বছর কংগ্রেসের অন্তবর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে দলের সাংগঠনিক কাঠামো খোলনলচে পরিবর্তনের আর্জি জানিয়ে যে ২৩ জন বিক্ষুব্ধ নেতা চিঠি দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন জিতিন। তা সত্ত্বেও জিতিনকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক রেখেই ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন অধীর চৌধুরীরা। সেই ভোটে একটিও আসন না পাওয়ার এক মাস পরেই বিজেপিতে নাম লেখালেন জিতিন। 

বুধবার বিজেপির সদর দফতরে পীযূষ গোয়েলের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যোগদানের পর বলেন, 'গত তিন প্রজন্ম ধরে আমাদের পরিবার কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত আছে। কিন্তু গত আট থেকে ১০ বছর ধরে আমি অনুধাবন করতে পারছিলাম যে যদি কোনও জাতীয় দল থাকে, সেটা হল বিজেপি।' রাজনৈতিক মহলের মতে, জিতিন বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বড়সড় ধাক্কা লাগল কংগ্রেসের।

হাত শিবিরের দীর্ঘদিনের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি মূলত মধ্য উত্তরপ্রদেশে অত্যন্ত পরিচিত ব্রাহ্মণ মুখ তিনি। যে রাজ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ মতো ব্রাহ্মণ ভোট আছে। ফলে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারতেন জিতিন। কিন্তু উলটে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেসের উচ্চবর্ণের ভোটব্যাঙ্কে আরও ধস নামবে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। যে ভোটব্যাঙ্কে ইতিমধ্যে আধিপত্য আছে রাজনৈতিক মহলের।