ভারতীয় সংবিধানে ৩৫৫ ধারা কি?

ভারতীয় সংবিধানে ৩৫৫ ধারা কি?

ipc section 355 in bengali ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৫ ধারা রাজ্যে রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দিলেই বিগদ্ধ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের মুখে রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৬ অথবা ৩৫৫ Article 355 অনুচ্ছেদ জারি করার দাবি শোনা যায়৷ বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবানি থেকে বাংলার পূর্বতন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এ ধরনের দাবি আমরা একাধিক বার শুনেছি৷ আজকাল বাংলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এখানকার বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মুখে সংবিধানের ৩৫৬ বা ৩৫৫ অনুচ্ছেদের প্রয়োগের প্রসঙ্গ বার বারই উঠে আসছে৷  

১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়িকে এ বিষয়ে একটি সম্মেলন ডাকতে বলেন৷ কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত তা আর হয়ে ওঠেনি৷ অতীতে যখনই কোনও রাজ্যে অশান্তির বাতাবরণ গড়ে উঠত, তখনই এই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক শিবির দাবি তুলত, সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক৷ অস্থিরতা দেখিয়ে ১৯৯৪ সালের আগে পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ঘটনা বহু৷

অবশেষে ১৯৯৪ সালে এস আর বোম্বাই বনাম ভারত সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় দানের পর থেকে অব্যর্থ কারণ ছাড়া রাজ্যে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারিতে ছেদ পড়ে৷ বোম্বাই মামলার সূত্রপাত কর্ণাটকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারিকে কেন্দ্র করে৷ সেই সময় আর ভেঙ্কটরমন ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি৷ কর্ণাটকের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিরুদ্ধে মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলে, ১) কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত যদি কেন্দ্রীয় সরকার নেয়, তা হলে সেই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সব নথিপত্র খতিয়ে দেখার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে দেশের সংবিধান অনুসারেই৷  

২) রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্তে লোকসভা ও রাজ্যসভার সিলমোহন পড়ার আগেও সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করতে পারে৷ ৩) রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার পরও সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করতে পারে যদি সেই বিল সংবিধান বিরোধী হয়৷ সুপ্রিম কোর্ট ওই রায়ে আরও বলে যে, ক) কেন্দ্রীয় সরকারকেই প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সিদ্ধান্তের পিছনে যথেষ্ট কারণ ও উপাদান রয়েছে৷ এবং খ) রাষ্ট্রপতি শাসনের ঘোষণা যদি অসাংবিধানিক হয়, তা হলে বাতিল হওয়া রাজ্য সরকারকে পূনর্বহাল করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে৷ অবশ্য রায় দানের সময় সুপ্রিম কোর্ট এ-ও বলে যে, কোনও রাজ্য সরকার যদি রাষ্ট্রের ধর্ম নিরপেক্ষতায় আঘাত হানে, বিনা দ্বিধায় কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারবে৷

বোম্বাই মামলার রায়ের পর আইনগত দিক থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ রাজ্যের উপর প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারবে না৷ তার পর থেকে রাজ্যের শাসক দলের উপর ক্ষোভ জন্মালেই বিরোধীরা রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করার দাবি জানাতে শুরু করল৷ আমাদের দেশের রাজনীতিকরা ৩৫৫ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্ত্ত ঠিকঠাক উপলব্ধি করতে পারলে এই দাবি কখনওই তুলতেন না৷ সংবিধানের অষ্টাদশ ভাগে জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত বিধান দেওয়া রয়েছে৷

এই ভাগে বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে৷ সংবিধানের এই ভাগে তিন ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, যে পরিস্থিতিগুলিতে সারা দেশে বা দেশের কোনও অংশে জরুরি অবস্থা জারি করা যেতে পারে৷ দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত৷

১) যুদ্ধ, বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা যেতে পারে সংবিধানের ৩৫২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে৷ অন্যান্য জরুরি অবস্থা থেকে আলাদা করে দেখানোর জন্য একে জাতীয় জরুরি অবস্থা বলা হয়৷ ২) কোনও রাজ্যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে ৩৫৬ ধারা বলে জরুরি অবস্থা জারি করা যেতে পারে, যাকে সাধারণ ভাবে আমরা রাষ্ট্রপতি শাসন বলে জানি৷ ৩) আর্থিক কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা যেতে পারে ৩৬০ অনুচ্ছেদে প্রয়োগ করেই৷ এই অনুচ্ছেদগুলির মতো ৩৫৫ অনুচ্ছেদও সংবিধানের অষ্টাদশ ভাগেই রয়েছে৷ কিন্তু এই অনুচ্ছেদটি অষ্টাদশ ভাগের অন্যান্য অনুচ্ছেদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা৷

৩৫৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তব্য হবে প্রত্যেক রাজ্যকে বাইরের আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগ থেকে রক্ষা করা এবং রাজ্যের শাসনব্যবস্থা যাতে সংবিধান অনুসারে চালিত হয়, তা নিশ্চিত করা৷ ৩৫৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাজ্য মন্ত্রিসভা সংবিধানসম্মত ভাবে সরকার না চালালে সেই মন্ত্রিসভাকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যেতে পারে৷ সেখানে ৩৫৫ অনুচ্ছেদ বলছে, বাইরের আক্রমণ বা অভ্যন্ত্ররীণ গোলোযোগ থেকে রাজ্য সরকারগুলিকে রক্ষা করতে কেন্দ্র বাধ্য এবং সংবিধান অনুযায়ী রাজ্য চালাতে রাজ্য সরকারের যা যা সাহায্য প্রয়োজন, তা দিতে কেন্দ্রীয় সরকার দায়বদ্ধ৷

অর্থাত্, ৩৫৬ ধারা হল কেন্দ্রীয় সরকারের অস্ত্র, যা প্রয়োগ করে কোনও প্রাদেশিক সরকারকে ফেলে দেওয়া যায়৷ আর ৩৫৫ অনুচ্ছেদ হল ঢাল, যা রাজ্য সরকারকে অরাজক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়বদ্ধ করে তোলে৷ কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা সংবিধান সভার আলোচনা ঘাঁটলে দেখা যাবে, সংবিধানের খসড়া রিপোর্টে ৩৫৫ ধারার কোনও উল্লেখই ছিল না৷ সংবিধান সভা ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে সংবিধানের খসড়া রিপোর্ট পেশ করে সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের কাছে৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় গেজেটে এই খসড়া প্রকাশ করা হয় জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে৷ সভার কোনও সদস্যই তখন মাথায় ছিল না ৩৫৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা৷

আরও সহজ করে বললে, ৩৫৫ অনুচ্ছেদে যা রয়েছে, সংবিধানে সেই রকম কিছু অন্তর্ভুক্ত করার কথা কারও মাথায় আসেনি৷ যে সব ছোটো স্বাধীন রাজ্য ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে চাইছিল, তারাই প্রথম ওই রকম একটি অনুচ্ছেদের দাবি তুলল৷ তাদের প্রশ্ন ছিল, সংবিধান ভঙ্গের প্রেক্ষিতে কোনও অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করার অধিকার কেন্দ্রকে যদি সংবিধান দেয়, তা হলে বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা অন্য কোনও দুষ্ট শক্তির দ্বারা তৈরি করার গোলযোগ থেকে রাজ্য সরকারকে রক্ষা করার কেন্দ্রীয় দায়বদ্ধতার কথা সংবিধানে কেন থাকবে না?

সংবিধান সভায় এই দাবি পেশ করেন জয়পুরের দেওয়ান টি ভি কৃষ্ণমাচারি, রামপুরের দেওয়ান এইচ জাইদি, ক্ষেত্রীর প্রতিনিধি সর্দার সিংজি এবং সর্দার জয়দেব সিং৷ এই দাবিপত্রের স্বাক্ষরকারীরা তাঁদের বক্তব্যের সমর্থনে মার্কিন সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদের চার নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করেন৷ মার্কিন সংবিধানে বলা রয়েছে, সেখানকার কোনও অঙ্গরাজ্যের আইনসভা আবেদন জানালে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যেক সেই অঙ্গরাজ্যকে অভ্যন্তরীণ হিংসা ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে৷

স্বাক্ষরকারীরা অস্ট্রেলিয় সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদেরও উল্লেখ করেন, যেখানে মার্কিন সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদের চার নম্বর ধারার মতো কথাই বলা রয়েছে৷ সংবিধান সভার সদস্যরা প্রথমে এই সব দাবি ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি৷ বি আর আম্বেদকরের সক্রিয় পদক্ষেপ ৩৫৫ ধারাকে সংবিধানে স্থান করে দেয়৷ সুতরাং, দেখা যাচ্ছে যে আমাদের মধ্যে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা থেকে রাজ্যে ৩৫৫ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের দাবি করে থাকেন৷

সংবিধানের ৩৫৫ ও ৩৫৬ অনুচ্ছেদের সারবস্তু প্রায় বিপরীতধর্মী৷ যেখানে ৩৫৬ অনুচ্ছেদে রাজ্যের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করার সংস্থান রাখা হয়েছে, সেখানে ৩৫৫ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংবিধানে ঠাঁই পেয়েছে সংবিধান অনুসারী প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে রক্ষা করার অঙ্গীকার৷  

 Article 355 Required In West Bengal ৩৫৫ ধারা কি  ৩৫৫ ধারা হল ভারতীয় সংবিধানের একটি বিধান যা কেন্দ্রীয় সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেকোনো রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার ক্ষমতা দেয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান যা অতীতে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে আহ্বান করা হয়েছে, এবং এর সুযোগ এবং প্রয়োগ অনেক বিতর্ক এবং আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। 

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৫ ধারার বিধানে বলা হয়েছে যে বাহ্যিক আগ্রাসন এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রতিটি রাজ্যকে রক্ষা করা এবং প্রতিটি রাজ্যের সরকার সংবিধানের বিধান অনুসারে পরিচালিত হয় তা নিশ্চিত করা ইউনিয়নের কর্তব্য। . এই বিধানটি কেন্দ্রীয় সরকারকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যে কোনও রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার ক্ষমতা দেয়, যদি রাজ্য সরকার অনুরোধ করে বা কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এটি প্রয়োজনীয় বলে মনে করে।

 ৩৫৫ ধারা এর গুরুত্ব  ৩৫৫ ধারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান কারণ এটি কেন্দ্রীয় সরকারকে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেয়। এই বিধানটি অতীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বিদ্রোহ এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ অভ্যন্তরীণ গোলযোগের মতো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবহৃত হয়েছে।  

৩৫৫ ধারা এর সুযোগ  ৩৫৫ ধারা এর পরিধি বেশ বিস্তৃত, কারণ এটি কেন্দ্রীয় সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেকোনো রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার অনুমতি দেয়। যাইহোক, এই বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর মোতায়েন কিছু শর্ত সাপেক্ষে, যেমন রাজ্য সরকারের সম্মতি বা রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি যে রাষ্ট্রের পরিস্থিতি এই ধরনের মোতায়েনের অনুমতি দেয়।

 ৩৫৫ ধারাকে ঘিরে বিতর্ক ৩৫৫ ধারা অনেক বিতর্ক এবং বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রদত্ত ক্ষমতার সীমার বিষয়ে। কিছু সমালোচক যুক্তি দিয়েছেন যে এই বিধানটি কেন্দ্রীয় সরকারকে অত্যধিক ক্ষমতা দেয় এবং ভারতীয় সংবিধানের ফেডারেল কাঠামোকে দুর্বল করে, অন্যরা দাবি করেছে যে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

কতদিনের জন্য জারি করা যায় রাষ্ট্রপতি শাসন? ছয় মাসের মধ্যে অনুচ্ছেদ ৩৫৬ জারি করার সিদ্ধান্ত, সংসদের দুই কক্ষে পাশ করাতে হয়। রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বাড়ানো যায়। তবে রাষ্ট্রপতি চাইলে যখন খুশি অনুচ্ছেদ ৩৫৬ অপসারণ করত পারেন। স্বাধীনতার পর থেকে মোট ১৩২ বার এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে রাজ্য সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে।

 আদালত কি অনুচ্ছেদ ৩৫৫ বা ৩৫৬ প্রয়োগের নির্দেশ দিতে পারে? সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেই এক্তিয়ার নেই আদালতের। ৩৫৬ বা ৩৫৫ নম্বর অনুচ্ছেদ জারি করার সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল, শুধু সেই বিচার করতে পারে আদালত। কোনও ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রয়োগ বেঠিক মনে করলে, আদালত সেই রাজ্য সরকারকে পুনর্বহাল করতে পারে।

 অনুচ্ছেদ ৩৫৫-র আওতায় কী রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্র? সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের সেই ক্ষমতা নেই। এই অনুচ্ছেদের অধীনে, রাজ্যে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা গেলেও তার কিছু শর্ত আছে। রাজ্য সরকারের বা রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাগে। রাজ্য সরকার চাইলে তবেই কেন্দ্র পদক্ষেপ করতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, তাদের রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের নির্দেশ ও পরামর্শ মেনেই চলতে হয়।

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা