ভিপিএন কি ? VPN ব্যবহার যে ৫ কারণে ঠিক নয়

ভিপিএন কি ? VPN ব্যবহার যে ৫ কারণে ঠিক নয়

ভিপিএন এর পূর্ণরূপ হলো ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। এটি ইন্টারনেটে আপনার ও অন্য একটি নেটওয়ার্কের মাঝে সিকিউর কানেকশন তৈরী করে দেয়। অধিকাংশ মানুষ মূলত অঞ্চলভিত্তিক ব্লক করা সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার্থে এবং সেনসিটিভ কন্টেন্ট ব্রাউজ করার সময় নিজেকে ট্রেস করা থেকে বাঁচাতেই ভিপিএন ব্যবহার করে। VPN এর পূর্ণরূপ বা পুরো নাম হল virtual private network (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক)  Virtual Private Network বা VPN হল ইন্টারনেটের একটি ভার্চুয়াল টানেল যার মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষ ব্লক করা ওয়েবসাইট ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা ও সেনসিটিভ কনটেন্ট ব্রাউজ করতে পারে। দিন দিন ব্যপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইন্টারনেটে এই ব্যবস্থা! প্রকৃত সত্য হল যে উদ্দেশ্যে VPN তৈরি করা হয়েছিল সেই উদ্যেশ্যে আজ মরীচিকায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছিল।  

 

ভিপিএন কি? (VPN explain in Bengali)

VPN এর পূর্ণরূপ বা পুরো নাম হল virtual private network (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) । আপনি সিকিউর ভাবে অন্য একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হলো ভিপিএন এর কাজ আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি তাদের সবার কিন্তু একটি ঠিকানা বা address রয়েছে যাকে যাকে আইপি এড্রেস বলে । 

 

Ip অ্যাড্রেস কি

সেটা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। এখান থেকে বোঝা যায় যে আপনি কোথা থেকে কোন দেশ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। কিন্তু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে কেউ কিন্তু বুঝতে পারবেন না আপনি কোথা থেকে কোন দেশ থেকে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন অর্থাৎ আপনারা secure ভাবে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন ভিপিএন এর মাধ্যমে। যখন ভিপিএন কানেক্ট করবেন তখন কিন্তু আপনাকে যেকোন একটি country সিলেট করতে হবে। তো আপনারা যে দেশটি সিলেট করবেন সেই দেশটি কিন্তু দেখাবে। অর্থাৎ আপনারা যদি ইন্ডিয়া থেকে আমেরিকা কান্ট্রি সিলেক্ট করে ভিপিএন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে কিন্তু তারা ভাববে যে আপনি সত্যি সত্যি আমেরিকা থেকেই ওই নেটওয়ার্ক টা ব্যবহার করছেন।

ভিপিএন কিভাবে কাজ করে : 

আপনাদেরকে উদাহরণ স্বরূপ বুঝিয়ে দিচ্ছি যে ভিপিএন কিভাবে কাজ করে, ধরুন আপনি WhatsApp বা Facebook খুলতে চাইছেন ,তো আপনি যখন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ খুলতে যান তখন কিন্তু আপনার নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারের কাছে একটি আদেশ যায় network provider বলতে আপনি যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন জিও, ভোডাফোন, এয়ারটেল বা ওয়াইফাই ব্রডব্যান্ড ইত্যাদি।সেই নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার কিন্তু ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ এর সঙ্গে কানেক্ট করে দে তারপর আপনি খুব সহজেই সেগুলো খুলতে পারেন।অনেক সময় অনেক ওয়েবসাইট খোলা যায় না সরকার থেকে সেগুলো কে বরণ করে দেওয়া হয় তখন কিন্তু এই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেই ব্লক ওয়েবসাইট গুলো খুলতে পারেন । ধরুন আপনার দেশে ফেসবুক খুলতে পারবেন না, সে ক্ষেত্রে ভিপিএন অ্যাপস টি ওপেন করে আপনাকে যে কোন একটা দেশ সিলেক্ট করতে হবে তো আপনারা যেকোনো একটি দেশ সিলেক্ট করে দিবেন তারপর কিন্তু আপনারা খুব সহজে ফেসবুক খুলতে পারবেন। এবং কেউ জানতে পারবে না যে আপনি কোন দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন এইভাবে মূলত ভিপিএন কাজ করে থাকে।

ভিপিএন ব্যবহারের সুবিধা : 

ভিপিএন ব্যবহারের কিছু সুবিধা হল

১. VPN ব্যবহার করে আপনারা যে কোন ব্লক ওয়েবসাইট ওপেন করতে পারবেন বা অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

২. আপনারা যখন কোন ব্লক ওয়েবসাইট ওপেন করবেন সেখানে কিন্তু আপনাদের অরিজিনাল আইপি অ্যাড্রেস শো করবে না সেটা কিন্তু হাইড থাকবে।

৩. আপনি যদি ভিপিএন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনাকে ট্রাক করা খুব কঠিন একটা কাজ।

যে ৫ কারণে ভিপিএন ব্যবহার করা ঠিক নয়-

১। VPN ব্যবহার অবৈধ
বিশ্বজুড়ে প্রায় সবকটি দেশেই VPN ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অর্থাত্‍ VPN ব্যবহার অবৈধ। আবার কোন কোন দেশে VPN block করা রয়েছে। VPN ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন কোন দেশে আপনার বসবাস হলে সেক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে VPN ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

২। তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট
VPN তৈরিই হয়েছিল তথ্যের গোপনীয়তা সংরক্ষণের কাজে। কিন্তু ধ্রুব সত্যি কি জানেন? প্রকৃত অর্থে VPN এ তথ্যের গোপনীয়তা থাকে না। তাই ফেসবুক, টুইটার বা অন্য কোনো ওয়েবসাইট ব্লক করে রাখা হলে ব্যবহারকারীদের কখনোই VPN ব্যবহার করা উচিত হবে না।

৩। ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ নয়
ব্যবসায়ীদের জন্য VPN মোটেও নিরাপদ নয়। Browser ব্যবহার করে VPN ডাউনলোড করা একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে মোটেই সুখকর হবে না।

৪। ইন্টারনেট চলে ধীরগতিতে
VPN নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে যদিও ওয়েবসাইটে নিজের আইপি অ্যাড্রেস গোপন রেখে ঢোকা যায়, কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ ধীরগতিতে চলতে থাকে। সবমিলিয়ে স্মার্টফোনে VPN ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

৫। শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা অসম্ভব
অনেক ব্যবহারকারীর ধারণা যে, VPN এ শতভাগ গোপনীয়তা অবলম্বন করা সম্ভব। অথচ এটি পুরোপুরি অমূলক ধারণা। কারণ গুগল, ফেসবুকসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মতো VPN কোম্পানি ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে তার পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী কনটেন্ট সরবরাহ করে। অতএব আমরা বলতে পারি VPN এ শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা অসম্ভব!

কীভাবে ভিপিএন ব্যবহার করবেন?

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি আপনার আনলাইন জীবন নিয়ে খুব বেশি সতর্ক হলে আপনি নিজেই একটি VPN সার্ভার তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অধিকাংশ মানুষই ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন থার্ড পার্টি সার্ভিস ব্যবহার করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেটিং ওয়ালা সার্ভিসগুলো আপনি নিশ্চিন্তেই ব্যবহার করতে পারেন। অধিকাংশ প্রোভাইডারেরই ফ্রি এবং পেইড, দুই ধরনের VPN প্ল্যান আছে। মাঝে মাঝে VPN ব্যবহার করলে ফ্রি প্ল্যানই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে।

আর যদি অফিসের বা ব্যবসায়িক কাজে রেগুলার ব্যবহার করতে হয় তাহলে ভালো একটা পেইড প্ল্যান নিতে পারেন। পেইড প্ল্যানে সাধারণত বিজ্ঞাপন থাকে না এবং সার্ভারের সংখ্যা বেশি ও স্পিড বেশি থাকে। এছাড়া আরো কিছু সুবিধা পেইড প্ল্যানে পাওয়া যায়। প্রায় সব ভিপিএন প্রোভাইডারেরই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ডেস্কটপ, এন্ড্রয়েড, আইওএস অ্যাপ ও ব্রাউজার এক্সটেনশন রয়েছে। এগুলো সাধারণত ক্রস প্লাটফর্ম সার্ভিস। এগুলো ব্যবহার করাও খুবই সহজ।

শুধুমাত্র তাদের সাইট এ গিয়ে সাইনআপ করলেই হয়ে গেলো। কয়েকটি জনপ্রিয় ভিপিএন প্রোভাইডার হলো স্যামসাং ম্যাক্স (ফ্রি), এক্সপ্রেস ভিপিএন, টানেলবিয়ার, হটস্পটশিল্ড ইত্যাদি। গুগলে কিংবা আপনার ডিভাইসের অ্যাপ স্টোরে VPN লিখে সার্চ করলেই অনেকগুলো সার্ভিসের লিস্ট পেয়ে যাবেন, যেখান থেকে ব্যবহারকারী সংখ্যা, রিভিউ ও রেটিং দেখে এগুলোর নির্ভরযোগ্যতা আঁচ করতে পারবেন। এছাড়া অপেরা ডেস্কটপ ব্রাউজারেও ফ্রি আনলিমিটেড ভিপিএন পাবেন।