কম্পিউটার কি | কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের নাম কী?

কম্পিউটার কি | কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের নাম কী?

কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা তথ্য বা ডেটা প্রক্রিয়া,সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতা রাখে। কম্পিউটার হল এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা অতি দ্রুত নির্ভুলভাবে বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক ও যৌগিক সমাধান দেয়। ১৮১২ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ডিফারেন্সিয়াল ইঞ্জিন এবং ১৮৩৩ সালে এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন উদ্ভাবন করে কম্পিউটারের জনক হিসেবে পরিচিত হন। কম্পিউটার বিভিন্ন প্রজন্ম অতিক্রম করে বিশাল আকৃতির কম্পিউটার থেকে ক্ষুদ্র  পামটপ কম্পিউটারে পরিবর্তন ঘটে।

আমাদের বর্তমান দিনের কম্পিউটার কে মাইক্রোকম্পিউটার বলে অভিহিত করা হয়। মাইক্রো কম্পিউটার এর চারটি ভাগ ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক ও পাম্প। বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তির এক অভূতপূর্ব নিদর্শন হলো কম্পিউটার (Computer)। কম্পিউটার শব্দটির উত্পত্তি হয়েছে ইংরাজি কম্পিউট (Compute) শব্দটি থেকে, যার মানে হল গণনা করা। অর্থাৎ, প্রাথমিক ভাবে আমাদের এ রকম একটা ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে, কম্পিউটার শুধুমাত্র একটি গণক যন্ত্র বা Calculating Machine হিসাবেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা তার থেকে অনেক ব্যাপক।

কম্পিউটারের ব্যবহার এখন বহুধা বিস্তৃত। বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে শুরু করে ব্যবসা, পরিচালনা বিদ্যা (Management), ইজ্ঞিনিয়ারিং এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কম্পিউটার হয়ে উঠেছে অবিচ্ছেদ্য অংশ এই প্রয়োজনীয়তা দিনে দিনে ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের কাছে কম্পিউটার সম্পর্কে জানা, কম্পিউটার ব্যবহার করার পদ্ধতি শেখা ছাড়া আর অন্য কোনও বিকল্প থাকছে না। আর বিজ্ঞানের এই শাখা যে হেতু ক্রমবর্ধমান, তাই এই ক্ষেত্রে কাজ করতে পারার মতো যোগ্য ব্যক্তি হয়ে ওঠার জন্যই কম্পিউটার শিক্ষা আমাদের প্রত্যেকের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পরিচিতি

 মাদারবোর্ড (motherboard)

মাদারবোর্ড হলো একটি কম্পিউটারের প্রধান অংশ। মাদারবোর্ডের মাধ্যমেই কম্পিউটারের অন্যান্য হার্ডওয়্যারগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে কার্য সম্পাদনা করে থাকে৷ মাদারবোর্ডের ক্ষমতা যত বেশি থাকে অন্যান্য হার্ডওয়্যারগুলো এর থেকে ততবেশি সাপোর্ট পায় এবং খুব দ্রুত কাজ করতে পারে৷ তাই মাদারবোর্ডকে কম্পিউটারের ‘মা’ বলা হয়ে থাকে।

 প্রসেসর (processor)

প্রসেসর হলো একটি কম্পিউটারের প্রধান চালিকাশক্তি। এটি মাদারবোর্ডের মাঝখানে থাকে৷ এর প্রধান কাজ হলো যে কোনো ডাটাকে প্রসেস বা প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে কাজের উপযোগী করে তোলা। এটি একটি গাড়ীর ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। প্রসেসরের স্পিড যত বেশি হবে, তত স্পিডেই কম্পিউটার যে কোনো কাজ সম্পন্ন হবে।

 পাওয়ার সাপ্লাই (power supply)

একটি কম্পিউটার চালানোর জন্য নিশ্চয়ই পাওয়ারের প্রয়োজন হয়। এই পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কাজই হলো একটি কম্পিউটারের প্রতিটি ডিভাইসকে সক্রিয় রাখার জন্য পরিমাণ মতো পাওয়ার সাপ্লাই দেওয়া।

 ram (random access memory)

RAM এর মূল কাজ হলো কম্পিউটার চলমান অবস্থায় প্রসেসরকে বারংবার তার কাজের কথা মনে করিয়ে দেওয়া।RAM এর সাইজ যত বড় হয়, RAM তত বেশি স্মৃতি ধারণ করে রাখতে পারে। মূলত এ কারনেই RAM যত বেশি হয় কম্পিউটার যেকোনো কাজ ততবেশি স্পিডে করতে পারে। কারণ RAM একসাথে অনেকগুলো কাজ মনে রাখে এবং প্রসেসরকে বার বার তা মনে করিয়ে দেয়, ফলে প্রসেসরও দ্রুত কাজগুলো করতে পারে৷ তবে মূল কাজটা কিন্তু প্রসেসরই করে থাকে।

 হার্ডডিক্স (hard disk drive)

হার্ডডিক্স হলো কম্পিউটারের সংরক্ষণাগার। এখানে আপনি আপনার সকল ডাটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এবং পূনরায় প্রয়োজন হলে সেখান থেকেই ডাটাগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। হার্ডডিক্সে জায়গা যতবেশি হবে আপনি সেখানে ততবেশি ডাটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।

 গ্রাফিক্স কার্ড (graphics card)

গ্রাফিক্স কার্ডের কাজ হলো মনিটরের সাহায্যে যাবতীয় ডাটার আউটপুট সুন্দরভাবে ভিউ করা। অর্থাৎ আপনি যত ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করবেন আপনার কম্পিউটারের মনিটর ততবেশি চকচকে হয়ে আপনার সামনে শো করবে। যারা মূলত গ্রাফিক্সের কাজ করে এবং হাই কোয়ালিটি রেজুলেশনের গেম খেলে তারাই গ্রাফিক্স কার্ড বেশি ব্যবহার করে থাকে।

ডিভিডি রাইটার (dvd writer)

ডিভিডি রাইটারের প্রধান কাজ হলো কোনো ডাটা কপি করে হার্ডডিক্সে সংরক্ষণ রাখা। এছাড়াও কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করতে, উইন্ডোজ দিতেও ডিভিডি রাইটারের প্রয়োজন হয়৷ তবে বর্তমানে পেনড্রাইভের বহুল ব্যবহারের জন্য CD বা DVD রাইটারের ব্যবহার অনেকাংশে কমে গিয়েছে।

মনিটর (monitor)

সাধারণত কম্পিউটারের কাজ করার ক্ষমতার সাথে মনিটরের কোনো সম্পর্ক নেই। মনিটর ছাড়াও কম্পিউটার তার কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে ব্যবহারকারীর সুবিধার্থে ও সঠিকভাবে মনিটরিং করার জন্য মনিটরের প্রয়োজন হয়৷ আমরা কম্পিউটারের যাবতীয় আউটপুট মূলত মনিটরের মাধ্যমেই দেখতে পারি।

 কীবোর্ড (keyboard)

কম্পিউটারের অন্যতম ইনপুট হার্ডওয়্যার হলো কীবোর্ড। এর মাধ্যমেই আমরা টাইপ করে কম্পিউটারকে বিভিন্ন ইন্সট্রাকশন দিয়ে থাকি। সে অনুযায়ী কম্পিউটার তার কাজ করে থাকে।

মাউস (mouse)

কীবোর্ডের মতোই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট হার্ডওয়্যার হলো মাউস। কীবোর্ডে যেমন টাইপ করার মাধ্যমে কম্পিউটারকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয় তেমনি মাউস দিয়ে ক্লিক করার মাধ্যমে যাবতীয় ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়ে থাকে।

এছাড়াও কম্পিউটারে টুকিটাকি আরো বেশকিছু যন্ত্রাংশ রয়েছে, যা দ্বারা আরো বিভিন্ন কার্য সম্পাদনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন: আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?
উত্তর: চার্লস ব্যাবেজ।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের কয়টি মূল অংশ রয়েছে?
উত্তর: ৪টি।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের চারটি মূল অংশের নাম লেখো।
উত্তর: ইনপুট, মেমোরি, প্রসেসর ও আউটপুট।
প্রশ্ন: আধুনিক যুগকে কীসের যুগ বলা হয়?
উত্তর: কম্পিউটারের যুগ বলা হয়।


প্রশ্ন: মনিটর কী?
উত্তর: মনিটর হচ্ছে আউটপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: কম্পিউটারে উপাত্ত ঢোকানোর জন্য কী দরকার?
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস দরকার।
প্রশ্ন: বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য কী প্রয়োজন?
উত্তর: বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার প্রয়োজন।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার কী দ্বারা
পরিচালিত হয়?
উত্তর: সফটওয়্যার দ্বারা।


প্রশ্ন: কি-বোর্ড, মাউস এগুলো কী ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: ১৮ + ১৫ = কত? ক্যালকুলেটরে অঙ্কটি সমাধান করলে কয়টি বোতাম টিপতে হবে?
উত্তর: ৩৩, ৬টি।
প্রশ্ন: কম্পিউটার কাজ শেষে ফলাফল কোথায় দেখায়?
উত্তর: মনিটরে।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের মেমোরি বা প্রসেসর কোথায় থাকে? উত্তর: কম্পিউটারের ভেতরে।
প্রশ্ন: ক্যালকুলেটর কোন ধরনের শব্দ?
উত্তর: ইংরেজি।


প্রশ্ন: গঠন, আকার ও প্রয়োজনে ক্যালকুলেটর কেমন হয়ে থাকে?
উত্তর: বিভিন্ন রকমের।
প্রশ্ন: ক্যালকুলেটরের ব্যাপক ব্যবহার কোথায় হয়ে থাকে?
উত্তর: ব্যবসা-বাণিজ্যে।
প্রশ্ন: কম্পিউটার কেমন ধরনের যন্ত্র?
উত্তর: ইলেকট্রনিক।
প্রশ্ন: চার্লস ব্যাবেজ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন?
উত্তর: ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের কার্যপদ্ধতির মূল বিষয়টি কেমন?
উত্তর: খুবই সোজা।


প্রশ্ন: কম্পিউটারের কাজ শেষে ফলাফল কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: মনিটরে।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাগুলোকে কী বলা হয়?
উত্তর: সফটওয়্যার।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের প্রসেসর কোন কাজটি কীভাবে সম্পন্ন করবে, এর জন্য কী কী নির্দেশ কোথায় জমা থাকে?
উত্তর: মেমোরিতে।
প্রশ্ন: একটি কম্পিউটারের শুধু হার্ডওয়্যার আছে, কম্পিউটার কী কাজ করবে?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মানুষের কোথায়?
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে।