তর্পন কি এবং কেন করিতে হয় ? মহালয়া ২০২০ এর তর্পণের সময় ক্ষণ

তর্পন কি এবং কেন করিতে হয় ? মহালয়া ২০২০ এর তর্পণের সময় ক্ষণ

আজবাংলা    ভাদ্র পূর্ণিমার পরবর্তী প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা তিথি পর্যন্ত পিতৃপক্ষ। অমাবস্যা পিতৃপক্ষের শেষ। মহাভারতে কর্ণের আত্মা স্বর্গে অবস্থান কালে খাদ্যদ্রব্য হিসেবে তাকে স্বর্ণ এবং রত্ন দেওয়া হয়। কর্ণ এর কারণ জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, দাতা কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণ এবং রত্ন দান করে গিয়েছেন, পিতৃপুরুষের উদ্দেশে খাদ্য বা জল দান করেননি।

এই কারণে তাঁকে স্বর্গে স্বর্ণ এবং রত্ন খাদ্য হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। কর্ণ বলেন, পিতা এবং পিতৃপুরুষের সম্বন্ধে তিনি অবহিত ছিলেন না। যুদ্ধের আগের রাতে তাঁর মা তাঁকে পিতা এবং পিতৃপুরুষের সম্বন্ধে অবহিত করেন। পিতৃপুরুষের উদ্দেশে খাদ্যদ্রব্য এবং জল প্রদান না করা তাঁর (কর্ণের) অনিচ্ছাকৃত ভুল।

কর্ণকে ভুল সংশোধন করার জন্য ইন্দ্র (মতান্তরে যম) ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে অন্ন এবং জল দানের অনুমতি দেন। এই ১৬ দিন পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তিথিতেই (পিতৃ পক্ষে) তর্পণ করা উচিত। সম্ভব না হলে পিতৃপক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ অমাবস্যায়।

তর্পণ কী? পূর্বপুরুষ, ঋষি, পিতামাতা এবং গুরুর উদ্দেশে খাদ্যদ্রব্য ও জল নিবেদনে তাঁদের তুষ্ট করাই হল তর্পণ (বিভিন্ন তর্পণে বিভিন্ন রীতি বা প্রক্রিয়া রয়েছে)।

কেন তর্পণ করা হয়? পুরাণে বলা হয়েছে পিতৃপুরুষ তুষ্ট হলে, তাঁদের আশীর্বাদে দীর্ঘায়ু, ধন সম্পত্তি, জ্ঞান, শান্তি এবং মৃত্যুর পর স্বর্গ ও মোক্ষ লাভ হয়।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার পিতৃপক্ষের শেষ দিন।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে—

ইংরেজি ১৬/০৯/২০২০, বাংলা ৩১ ভাদ্র, ১৪২৭, বুধবার, সময় রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে অমাবস্যা শুরু।

ইংরেজি ১৭/০৯/২০২০, বাংলা ১ আশ্বিন, ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, সময় বিকেল সাড়ে ৪টেয় অমাবস্যা শেষ।

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে—

ইংরেজি ১৬/০৯/২০২০, বাংলা ৩০ ভাদ্র, ১৪২৭, বুধবার, সময় রাত ৭টা ০৩ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে অমাবস্যা শুরু।

ইংরেজি ১৭/০৯/২০২০, বাংলা ৩১ ভাদ্র, ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, সময় বিকেল ৫টা ০৩ মিনিট ০৮ সেকেন্ডে অমাবস্যা শেষ।

তিল তর্পন করার উদ্দেশ্যঃ

তিল ব্যাবহারের মাধ্যমে নেতিবাচক ও আসুরিক শক্তি শ্রাদ্ধকারির মাঝে প্রবেশ করতে পারেনা। স্রাদ্ধের দিন ঘরে তিল ছিটিয়ে দিতে হয়। জলের সাথে তিল মিশিয়ে শ্রাদ্ধে আগত ব্রাহ্মণদের খেতে দিতে হয়। শ্রাদ্ধ শেষে তিল ডান করতে হয়।

তর্পন প্রকার :
১) পিতৃ তর্পন ।
২)মাতৃ তর্পন ।
৩) গুরু তর্পন ।
৪) ঋষি তর্পন ।
৫) দিব্য পিতৃতর্পন ।
৬) যম তর্পন ।
৭) ভীষ্ম তর্পন ।
৮) বাম তর্পন ।
৯)লক্ষণ তর্পন
১০) শূদ্র তর্পন ।

"মৃত্যুর পর পরলোকে জীবের গতি"
মৃত্যুর পর পরলোকে জীবের গতির দুটি প্রধান পথের কথা শাস্ত্রে বলা আছে। (১) দেবযান বা উত্তরমার্গ, (২) পিতৃযান বা দক্ষিণমার্গ। সগুণ ব্রহ্মের উপাসক, নিষ্ঠাবান ব্রহ্মচারী, বানপ্রস্থী ও পঞ্চাগ্নির জ্ঞানসম্পন্ন গৃহস্থরা মৃত্যুর পর দেবযান বা উত্তরমার্গে যান। প্রথমে এঁরা অগ্নিলোকে যান, তার পরে শুক্ল পক্ষ, ছয় মাস উত্তরায়ণ, দেবতা, বায়ু, সূর্য প্রভৃতি বিভিন্ন লোক ভ্রমণ করে সব শেষে ব্রহ্মলোকে বা সত্যলোকে উপস্থিত হন। সেখানে আত্মজ্ঞান পেয়ে মুক্তি লাভ করেন। তাঁদেরকে আর সংসারে ফিরে আসতে হয় না। এর নাম ক্রমমুক্তি।


আর যে সব গৃহস্থ সংসারে থেকে অগ্নিহোত্রাদি যজ্ঞ এবং ঈষ্ট পূজা ও অন্যান্য পূণ্যকর্মের অনুষ্ঠান করেন তাঁরা পিতৃযান বা দক্ষিণমার্গে যান এবং পরে চন্দ্রলোকে উপস্থিত হন। সেখানে তাঁরা পূর্বজন্মের পূণ্যকর্মের ফল ভোগ করেন। ভোগশেষে সমস্ত পূণ্যকর্ম শেষ হলে আবার এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন। এই ভাবে তাঁরা সংসারে বার বার যাতায়াত করেন।