গ্রহের কী রকম অবস্থানে কালসর্প যোগের অশুভত্ব অনেকটা কম ভোগ করতে হয়

গ্রহের কী রকম অবস্থানে কালসর্প যোগের অশুভত্ব অনেকটা কম ভোগ করতে হয়

 লগ্ন, চন্দ্র, নবমপতি বলবান হলে অশুভ ভাব অনেক কমে যায়। রাহু এবং কেতুর এক পাশে অন্য সাতটি গ্রহ থাকলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বহু প্রকার অবস্থান হতে পারে, একটি লগ্নের ক্ষেত্রে রাহু ও কেতুর এই প্রকার অবস্থান ছ’রকম হতে পারে। আবার লগ্ন যদি অন্য আলাদা ঘরে থাকে, তখন ১২ রকমের কালসর্প যোগ হতে পারে। স্বভাবতই এই সব যোগগুলো সমান অশুভ হয় না।

যে কোনও ছকে যা বিচার করতে হবে, তা হল কালসর্প যোগের মধ্যে ক’টি অশুভ গ্রহ আছে আর ক’টি শুভ ভাব আছে। অশুভ ভাবগুলোতে অশুভ গ্রহ থাকলে অশুভ ফলের প্রাপ্তি ঘটবে এবং শুভ ভাবগুলোতে শুভ ফল লাভ হবে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা মিশ্র ফল দেখে থাকি। গ্রহগুলো যখন শুভ ও অশুভ ভাবে ছড়িয়ে থাকে সেরূপ ক্ষেত্রে জীবনে এক সময় শুভ ফল আসবে আবার অন্য সময়ে অশুভ ফল হবে।

 যদি কোনও জাতচক্রের কালসর্প যোগের ক্ষেত্রে পাপগ্রহরা অশুভ ভাবে থাকে, তাদের অশুভ ফল খুব বেশি হয়। কিন্তু শুভ গ্রহ যোগে অশুভ ফল না হয়ে শুভ ফলের আধিক্য ঘটে। এই ধরনের মিশ্র ফল সাধারণত সকল কালসর্প যোগেই হয়ে থাকে। আমাদের দেশে অনেক নামী মানুষ আছেন যাঁদের কালসর্প যোগে জন্ম। কালসর্প যোগে জন্ম হয়েও তাঁদের অভাবনীয় প্রতিভা।

তাই কালসর্প যোগ থাকলেও কোনও কোনও সময় উন্নতি করা যায়। কালসর্প যোগে বলতে মানুষের মনে একটা ভয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা একদমই ঠিক নয়। রাহু ও কেতুর একপাশে সমস্ত গ্রহ থাকলে কালসর্প যোগ সৃষ্টি হয়। সাধারণ ভাবে কালসর্প যোগ অশুভ হলেও, সব ক্ষেত্রে এই যোগ অশুভ হয় না। জন্মকুণ্ডলীতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রহের অবস্থান এমন থাকে, যা কালসর্প যোগের অশুভ প্রভাব অনেকটা কমিয়ে দেয়।