গর্ভপাতের দাবিতে পোল্যান্ডে বিক্ষোভের কারণ কি?

গর্ভপাতের দাবিতে পোল্যান্ডে বিক্ষোভের কারণ কি?

পোল্যান্ডে নারীরা গর্ভপাতের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভকারী নারীরা বলছে, পোল্যান্ড সরকারের গভর্পাতবিরোধী আইনটিকে বাতিল করতে হবে। দেশটির নারী অধিকার কর্মীসহ সাধারণ নারীরা এই দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু এবারের বিক্ষোভের নেপথ্যে কভিড-১৯ পরিস্থিতির ভূমিকা রয়েছে।

যুক্তিসঙ্গত কিছু কারণ ছাড়া পোল্যান্ডে গর্ভপাতকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জানা গেছে, পোল্যান্ডে নারীরা গর্ভপাতের প্রয়োজনে ইউোরোপের অন্য দেশগুলোকে বেছে নিতেন। বিশেষত, প্রতিবেশী দেশগুলোয় তারা গর্ভপাতের জন্য পাড়ি জমাতেন। কিন্তু কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নারীরা সীমান্ত পার হতে পারছিলেন না।

এ অবস্থায় গর্ভপাতে ইচ্ছুক নারীরা এটি করতে সমর্থ হচ্ছিলেন না। এর মধ্য দিয়ে গর্ভপাতবিরোধী আইনটির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নারীরা। ক্যাথলিক খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশটির চার্চগুলোর চাপে পড়ে সরকার আইনটি করেছিল। দেশটিতে চার্চ বিশপদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশের সিংহভাগ মানুষ এই নিয়ন্ত্রণমূলক আইনটির বিরুদ্ধে।

পোল্যান্ডে গর্ভপাত সম্পর্কিত বিতর্ক নতুন নয়। এখানে রাজনৈতিক দলগুলো চার্চ দ্বারা প্রভাবিত। এমনকি, দেশটির আদালতও এ বিষয়ে বিতর্কিত রায় দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতও চার্চের প্রভাবেই রায় দিয়েছে। সরকার যুক্তিসঙ্গত ক্ষেত্রে গর্ভপাতের অধিকার দিলেও আদালত আরও এক ধাপ বাড়িয়ে বলে- যেকোন ধরনের গর্ভপাতই অসাংবিধানিক।

অন্যদিকে, চলমান বিক্ষোভে নারীরা বলছে, যৌনতা তাদের অধিকার তাই এ ধরনের বিধিনিষেধ অন্যায়। ইউরোপের দেশগুলোয় গর্ভপাত নারীর অধিকার হিসেবেই স্বীকৃত। কিন্তু পোল্যান্ড এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এর বাইরে ইউরোপের দেশ মাল্টায় শুধুমাত্র গর্ভপাতবিরোধী আইন রয়েছে। তবে অন্যান্য কিছু দেশে গর্ভপাতের বিরুদ্ধে আইনগত বাধা না থাকলেও এটিকে নিরুৎসাহিত করা হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স।