মেকাপের জন্য কোন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন ??

মেকাপের জন্য কোন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন ??

 

ছোট কোনও অনুষ্ঠানে যান বা বড় কোনও উত্‍সব, মেকআপ আপনার দরকার হবেই। নিজেকে যত্ন করে সাজিয়ে তোলার জন্যে পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে মানানসই মেকআপ অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। মেকাপ শব্দটা শুনলেই তার বিপরীতে যে শব্দটি আমাদের মাথায় আসে সেটা হলো ফাউন্ডেশন।কিন্তু অনেক সময় নিজের ত্বক অনুযায়ী ঠিক ফাউন্ডেশন খুঁজে নেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ত্বকের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফাউন্ডেশন না নিলে, ভালো ব্র্যান্ডের দাম দিয়ে কেনাটাও আপনাকে হতাশ করবে। কেমন করে নিজের জন্য উপযুক্ত ফাউন্ডেশন বেছে নেবেন, কি কি গুণাবলী খুঁজবেন, কেমন করে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন?এই সব নিয়েই আপনার জন্যে রইলো কিছু দরকারি টিপস।—

শেড যেভাবে বাছবেন:– ফাউন্ডেশন কিনতে গেলে অনেক ফাউন্ডেশন দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। পারলে যাওয়ার আগে বাড়িতে অনলাইনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ফাউন্ডেশন সম্পর্কে জেনে নিন। স্টোরে গিয়ে দরকারে বিশেষজ্ঞর সঙ্গে আলোচনা করে নিন। নিজের হাতে অল্প লাগিয়ে দেখুন কিছুক্ষণ। শুকিয়ে গেলে যদি ত্বকের সঙ্গে ফাউন্ডেশনের শেড মিলে যায় তবেই কিনুন। স্টোরের আলো অনেক সময় সঠিক রং চেনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। সে ক্ষেত্রে বাইরে সূর্যের আলোয় মিলিয়ে নিন। 

ত্বকের ধরণ : ফাউন্ডেশন নিতে হলেই যে জিনিস সর্ব প্রথম খেয়াল রাখতে হবে সেটা হলো আপনার ত্বকের ধরণ। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ৩ ক্যাটগরীতে ফাউন্ডেশন কে ভাগ করা যায়। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন:- ফাউন্ডেশন আপনার ত্বকের উপর একটা প্রলেপ দিয়ে দেয়। তাই কখনোই সরাসরি ত্বকের উপর ফাউন্ডেশন লাগাবেন না বা না লাগানোর চেষ্টা করবেন। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে তার পরে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে ত্বক ভালো করে ধুয়ে এক্সফলিয়েট করে নিন। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু নিজের আঙ্গুল ব্যবহার করা সব থেকে ভালো।

সানস্ক্রিন এসপিএফ আছে কি না দেখে নিন:- আগেই বললাম যে ফাউন্ডেশন আপনার ত্বকের উপর একটা প্রলেপের মত থাকে তাই বাইরে দিনের বেলায় বেরোতে গেলে সানস্ক্রিন খুবই দরকার। কারণ অতিরিক্ত সূর্যের আলো আপনার ত্বকে ট্যান এর কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন কেনার সময় এসপিএফ আপনার ফাউন্ডেশনে আছে কি না দেখে নিন। গরম বা ঠাণ্ডার সময় পরিবেশের তাপমাত্রার পার্থক্য থাকে বলে আলাদা আলাদা ফাউন্ডেশন কিনে রাখতে পারেন। অন্যান্য সময় এই দুই ফাউন্ডেশন মিশিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে যাদের মেকআপে অ্যালার্জি আছে বা ময়েশ্চারাইজার মাখলেও অ্যালার্জি হয়, তারা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার আগে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন। খুব সংবেদনশীল ত্বক হলে ফাউন্ডেশনের ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া ভালো সাময়িক সময়ের জন্য। 

ফাউন্ডেশন
ত্বকের রং আর ধরনের উপর ভিত্তি করে বেছে নিন আপনার ফাউন্ডেশন। আপনি যদি মেকআপ করতে অভ্যস্ত না হন, তা হলে এমন কিছু নিন যা হালকা এবং ত্বকের সঙ্গে চটপট মিশে যায়। দোকানে আপনার প্রয়োজনটা বললে ওঁরাই সাহায্য করবেন।

হাইলাইটার প্যালেট
শুনে মনে হতে পারে, এ জিনিস আপনি ব্যবহার করবেন না, কিন্তু ফাউন্ডেশন লাগানোর পর মুখে একটা আলগা দীপ্তি পেতে হাইলাইটারটা আপনার দরকার। গালের হাড়ে, কপালে সামান্য হাইলাইটার আপনার মুখে অন্য ডাইমেনশন এনে দেবে।

কনট্যুর প্যালেট
হাইলাইটার আপনার মুখের সুন্দর দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে আর কনট্যুর প্যালেট খুঁতগুলোকে ঢেকে দেয়। ইউটিউবের টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে শিখে নিন কীভাবে কনট্যুর প্যালেট ব্যবহার করবেন। ত্বকের রঙের আন্ডারটোনের সঙ্গে মানানসই কনট্যুর প্যালেট বেছে নিতে হাতের ভিতরদিকে শেডের সোয়াচ পরখ করে দেখুন কোনটা ত্বকের রঙের সবচেয়ে কাছাকাছি হচ্ছে।

মাস্কারা
চোখ নিমেষে উজ্জ্বল করে তুলতে জুড়ি নেই মাস্কারার। চোখের পল্লব ঘন আর দীঘল দেখায় মাস্কারার ব্যবহারে, পাশাপাশি আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকেও আরও ফুটিয়ে তোলে।

লিপ অ্যান্ড চিক স্টেন
যাঁরা আলাদা করে ব্লাশার কিনতে চান না, তাঁরা লিপস্টিকটাই ব্লাশারের মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। তাতে কাজও হবে, বাড়তি খরচও হবে না।মেকআপ করার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আপনি ধীরে ধীরে আপনার মেকআপের ভাঁড়ার আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারেন। কিন্তু তা যদি নাও করেন, তা হলেও অবশ্যই সঙ্গে রাখুন উপরে বলা পাঁচটি উপাদান। যে কোনও অনুষ্ঠান বা উপলক্ষ্যে মেকআপ নিয়ে আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।