সামনেই মকর বা পৌষ সংক্রান্তি, জেনে নিন কেন পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি

সামনেই মকর বা পৌষ সংক্রান্তি, জেনে নিন কেন পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি

আজবাংলা   পুরান অনুসারে আজকেই সব দেবতাদের সম্মিলিত তেজ একত্রিত করে সৃষ্ট মহিষাসুর দলনী দেবী দূর্গা মর্তের মাটিতে প্রথম পা রাখেন। দশ দিকের নিয়ন্ত্রা দেবী তার অধিকার বিস্তার করেন বসুন্ধরার উপর। বসুমতী হয়ে ওঠে শষ্য শ্যামলা দেবীর আশীর্বাদ ধন্যা।

এছাড়া রাজা ভগীরথের তপস্যার ফলে কুপিত কপিল মুনির অভিশাপ প্রাপ্ত পূর্ব পুরুষ সগর রাজের ৬০,০০০ পূত্রের মোক্ষ প্রাপ্তির জন্য বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী বিষ্ণু অবতার সাংখ্য যোগ প্রণেতা মহামুনি কপিলে আশ্রমে পড়ে থাকা পূর্বজদের ভষ্মের উপর প্রবাহিতা হয়েছিলেন পাপ, তাপ, জ্বরা, ব্যাথী ও কলুশনাশিনী দেবী গঙ্গা।

এরপর দেবী রত্নাকর সাগরে পতিত হয়েছিলেন। দেবী গঙ্গার বাহন ‘ মকর ’-এর নামে এই দিনটি সমর্পিত। এই দিন থেকে দেবলোকের দিন মর্তে যার স্থায়িত্ব ৬ মাস সেই উত্তরায়ণের সূচনা হয়। দেবতারা নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন। মহাভারত অনুসারে এই দিনেই শাপভ্রষ্ট অষ্টবসুর অষ্টম বসু শান্তনু-গঙ্গা পূত্র ইচ্ছামৃত্যুর বরপ্রাপ্ত পিতামহ দেবব্রত ভীষ্ম মুক্তি ও মোক্ষ লাভ করেছিলেন কুরুক্ষেত্রে।

পৌষ মাসের এইদিনটিতে কৃষকদের ঘরে ঘরে নতুন ধানের চাল দিয়ে ‘ নবান্ন ’ উৎসব পালিত হয়। আর স্বাভাবিক ভাবেই এইদিনে ধান্য বা পৌষী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। কারন মা লক্ষ্মীতো শষ্য বা ধানেরই অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

‘গীতগোবিন্দ’-এর রচয়িতা বৈষ্ণব কবি জয়দেব গোস্বামীর সাধ থাকলেও গঙ্গায় স্নান করার বাসনা তার অর্থাভাবের জন্য পূর্ণ হয়নি। তাঁর বাড়ী ছিলো বীরভূম জেলার অজয় নদের তীরস্থ কেন্দুলী গ্রামে। ভক্তের মনোস্কামনা পুরোনের জন্যে দেবী গঙ্গা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে প্রতি বছর এই দিনে অজয় নদে পূণ্যশলীলা গঙ্গাবারি প্রবেশ করে অজয় নদও গঙ্গার মতো মোক্ষদায়ক হয়ে উঠবে।
 
তাই কেন্দুলিতেই ভক্ত জয়দেবের মনোবাঞ্চা পূর্ণ হয়েছে। একই ভাবে সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্যর মা গঙ্গার কাছে আবদারে বর্ধমানে বসেই দামোদর নদে পূর্ণ স্নান করেছিলেন। ১৯৩৮ সালের ১৪ ই জানুয়ারী পূন্য মকর সংক্রান্তি তিথিতে স্বামী বিজ্ঞানানন্দজী মহারাজ বেলুড় মঠে শ্রীশ্রী ঠাকুরের মর্মর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন।