ইস্তফা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ইস্তফা প্রত্যাহার করে নিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

ইস্তফা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ইস্তফা প্রত্যাহার করে নিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

আজবাংলা      শনিবার মহাষ্টমীর দিন সকালেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা  দেওয়ার 'নাটকীয়' ঘোষণা করেছিলেন সৌমিত্র খান। কয়েক ঘন্টা কাটতে না কাটতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে ১৮০ ডিগ্রি পাল্টি খেয়েছেন 'রাজনৈতিক ডিগবাজিতে' পিএইচডি ডিগ্রিধারী বিষ্ণুপুরের সাংসদ।

ফের যুব মোর্চার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ফিরেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ডিগবাজি কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, 'কোনও কমিটি বদল হচ্ছে না। তোমাদেরকে ছেড়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তৃণমূলকে হারানোর জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি আছি। তাই ফিরে এলাম।' কেন তিনি ইস্তফা প্রত্যাহার করলেন, তা নিয়ে সরাসরি কোনও ব্যাখ্যা দেননি সৌমিত্র।

সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এ দিন বিকেলে ভিডিয়ো-বার্তায় তাঁর মন্তব্য, ‘‘মান অভিমান তো হয়েইছিল, এবং অভিমানটাও হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যক্তির জন্য তো আর দল ছাড়ব না। দল হচ্ছে আমাদের কাছে পরিবার। ভারতীয় জনতা পার্টি যে সম্মান আমাকে দিয়েছে বা নরেন্দ্র মোদীজিকে দেখে যে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ছেলেরা এগিয়ে আসছে, অমিত শাহজির সাংগঠনিক ক্ষমতা দেখে সব মানুষেরা উন্নয়নে থাকতে চান।

তাই একটা কথা বলে রাখি, আমাদের যুব মোর্চার একটাই কাজ হবে গোটা বাংলার আন্দোলন করা, আন্দোলন করা আর আন্দোলন করা।’’সৌমিত্রের ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের চাঁছাছোলা বক্তব্য, ‘‘ও যে গিয়েছে বা ফিরেছে, তার কিছুই তো আমি জানি না! সবটাই হোয়াট্সঅ্যাপে ঘটেছে। এ বিষয়ে যা ঠিক হবে, সব পুজোর পর।

’’ দিলীপ আর কিছু না বললেও রাজ্য বিজেপি-র এক শীর্ষনেতার বক্তব্য, ‘‘ও নাটক করছিল! যাবে কোথায়? কোনও কথা শোনে না! দলের মধ্যে সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করছিল।’’বিজেপি সূত্রের খবর, যুব মোর্চার আড়ালে রাজ্যে একটা সমান্তরাল সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খান।

আর তাঁকে এ বিষয়ে পূর্ণ মদত দিচ্ছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, বাবুল সুপ্রিয়, স্বপন দাশগুপ্তের মতো আধা-সিকি নেতারা। না যাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে, না দলীয় সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। যুব মোর্চার আড়ালে সমান্তরাল সংগঠন গড়ে তুলে কৈলাস আর মুকুলরা যে তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন তা বুঝতে পেরেই পাল্টা চাল দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

আর সেই চালে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন রাজনৈতিক ডিগবাজিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী সৌমিত্র। তাই মহাষ্টমীর সকালে পদত্যাগ নামক এক প্রস্থ নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসার ঘোষণা করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছে হাসির খোরাক হয়েছেন। এখন দেখার, এই ‘প্রত্যাবর্তন’-এর পর সৌমিত্রর ঘোষিত কমিটিগুলি বহাল থাকে কি না।

যা দিলীপ ভেঙে দিয়েছিলেন। রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, সৌমিত্রর হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে ইস্তফা ঘোষণার খবর জানাজানি হতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং শিবপ্রকাশ দিলীপকে ফোন করেছিলেন। দিলীপ তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সৌমিত্র দলের মধ্যে সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। যা তিনি মানবেন না। তাই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত তার পরেই সৌমিত্র বুঝে যান, ইস্তফা দিয়ে লাভ নেই। এখন প্রত্যাবর্তনই শ্রেয়।