ওয়ার্ক ফ্রম হোম? সংসারের ঝামেলা ও খারাপ নেটওয়ার্ক, এযেন বিভীষিকা

ওয়ার্ক ফ্রম হোম? সংসারের ঝামেলা ও খারাপ নেটওয়ার্ক, এযেন বিভীষিকা

আজ বাংলা: বিশ্বে মারণ থাবা বসিয়েছে করোনা। আর এই করোনা সংক্রমণ রুখতে জারি লকডাউন। ফলে বেশিরভাগ ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে হচ্ছে কর্মীদের।

তবে বাড়িতে কাজের অনিবার্য পরিবেশ অধরা। ফলে লকডাউনের ভারতে দিনদিন কাহিল অবস্থা হচ্ছে ‘কর্পোরেট ভারত’-এর। বলতে গেলে টানা প্রায় তিনমাস ঘরবন্দি গোটা দেশ। বাড়িতে বসে কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করা সাধারণ মানুষ।

কলড্রপ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে তাঁদের এখন ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা! তার চেয়েও বড় কথা ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশকে মানাতে পারছে না।

গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয়ে হয়তো সবে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর ঠিক তখনই উধাও স্ক্রিনের ছবি। কর্তার দর্শন ছাড়া তখন অডিও বার্তাই ভরসাঅধঃস্তনদের। কিন্তু সেখানেও নেটওয়ার্কের সমস্যা। তাই অডিও বার্তাও ঠিকঠাকভাবে কানে ঢুকছে না।

ফলে মাঝ পথে থামিয়ে দিতে হচ্ছে আলোচনা। তা না হলে বিভ্রান্তি বাড়ছে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে। সবমিলিয়ে নাজেহাল দশা বিশ্বের সর্ববৃহৎ হোম কোয়ারেন্টাইন দেশের।

এই কোভিড মোকাবিলায় লকডাউনকে মোক্ষম অস্ত্র করে এগিয়েছে বিশ্বের প্রতিটি দেশই। আর তখন থেকেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর উপর ভরসা রাখা শুরু। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাড়িতে বসে কাজ করার অভ্যেস রপ্ত হয়নি আমআদমির। অফিসে বসে কাজ করার যে স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে, সেটা ঘরে বসে একেবারেই সম্ভব নয়। এর মূল কারণ একটাই।

বাড়িতে বসে কাজের হ্যাপা অনেক। লোকভর্তি ঘর। চিৎকার, চেঁচামেচি। বাড়ির খুদে সদস্যদের জ্বালাতন। তার উপর সংসারের নানা ঝুট-ঝামেলা তো রয়েইছে। সঙ্গে উপরি পাওনা আপনার ঘরণীর  মেজাজ। এটা নেই, ওটা নেই-এর নালিশ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা অবস্থা। তখন অফিসের কাজে মনসংযোগ করাটাই বড় কঠিন হয়ে ওঠে।

বেঙ্গালুরুর একটি এগ্রোটেক স্টার্টআপ সংস্থার কর্মকর্তা শশীধর সত্যনারায়ণ যেমন বলছিলেন, ‘কাজের অনিবার্য পরিবেশটাই সাংসারিক নানা ঝামেলায় নষ্ট হয়ে যায়। আমি যখন ভিডিও কনফারেন্স করছি, তখনই আমার প্রেশার কুকারের বাঁশির আওয়াজ কানে এল। এমতাবস্থায় কনফারেন্স সচল রাখা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে।’