বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস

বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস

 ৬ জানুয়ারি সারা বিশ্বজুড়ে World Day for War Orphans বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস পালিত হয়। প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস ।

প্রতি বছর ৬ জানুয়ারি সারা বিশ্বজুড়ে বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস পালিত হয় যুদ্ধজনিত কারণে অনাথ শিশুদের মানসিক সংকট ও দুর্দশা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ও এই সংকট জনিত সমস্যা থেকে তাদের মুক্তির উদ্দেশ্যে। ফরাসী সংগঠন এসওএস এনফ্যান্টস এন ডিট্রেস (SOS Enfants en Detresse ) এর হাত ধরেই প্রথম এই দিনে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস পালন শুরু হয়।

ইউনিসেফের মতে, অনাথ শিশু বলতে এমন একজন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকে বোঝায় যার মা অথবা বাবা অথবা উভয়েরই মৃত্যু হয়েছে। এই দিনটিতে বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠনগুলি যুদ্ধজনিত কারণে অনাথ শিশুদের উদ্দেশ্যে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জুড়ে অগণিত শিশুদের অনাথ হওয়া একটি বিশ্বব্যাপী মানবিক ও সামাজিক সঙ্কটে পরিণত হয়েছে যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

এই দিনে যুদ্ধের ফলে পরিবারবিহীন শিশুদের আরও ভাল ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বজুড়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় বিভিন্ন সংগঠনগুলি। ইউনিসেফের সমীক্ষা অনুযায়ী পৃথিবীর উত্তর-পূর্বের দেশগুলিতে প্রায় ৯,০০,০০০ শিশু রয়েছে যারা সবাই শিক্ষা, খাদ্য, আশ্রয় বা যুদ্ধের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উন্নত দেশগুলিতে এই অনাথ শিশুদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম তবে যে দেশগুলিতে যুদ্ধ এবং এডস-এর প্রকোপ রয়েছে এবং সেখানে অনাথ শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক দশকে, সশস্ত্র সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের হতাহতের অনুপাত উল্লেখযোগ্য বেড়েছে এবং এই হতাহতের প্রায় অর্ধেকের বেশি শিশু। যুদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আনুমানিক দুই কোটি শিশু হয় তাদের বাসস্থান হারিয়েছে অথবা বাসস্থান ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলিতে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নিয়েছে।

বিশ্ব যুদ্ধজনিত অনাথ শিশুদের দিবস বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে মর্মান্তিক এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে শিশুদের যত্ন নেওয়া একটি বিশেষ অগ্রাধিকার। যুদ্ধের কারণে এই অনাথ শিশুদের যুদ্ধ সংক্রান্ত মানসিক ক্ষত সারাতে এবং সেই সাথে পড়াশোনা সহ স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে সাহায্য করার জন্য এই অনাথ শিশুদের প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন নিতে হবে।