যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও ভুয়ো দাবি ইয়েদুরাপ্পার সরকারের মন্ত্রীর

যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও ভুয়ো দাবি ইয়েদুরাপ্পার সরকারের মন্ত্রীর

 বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। তার আগে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে বি এস ইয়েদুরাপ্পার সরকার। কারণ, বিজেপি শাসিত রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ জারকিহোলির যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর তাই নিয়েই ভয়ঙ্কর বিতর্ক শুরু হয়েছে কর্নাটকে। যদিও বিজেপি মন্ত্রী জারকিহোলি এই সেক্স ভিডিওতে ভুয়ো বলে দাবি করেছেন।

এমনকী, যদি এটি সত্যি প্রমাণিত হয় তবে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এই সেক্স ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন মন্ত্রী রমেশ জারকিহোলি। তিনি বলেছেন, 'এটা একটা ভুয়ো ভিডিও। আমি এই মহিলা এবং অভিযোগ কোনও কিছু সম্পর্কেই জানি না। আমি মাইসোরে ছিলাম এবং চামুন্ডেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলাম। আমি এই মহিলার সঙ্গে কোনও দিন কথাও বলিনি।

এই ভুয়ো ভিডিও নিয়ে আমি আমার দলের হাইকম্যান্ডের সঙ্গে কথা বলব। এটা খুবই মারাত্মক অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছি। এই ঘটনায় অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার।' সূত্রের খবর, ওই ভিডিওতে এক তরুণীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে যৌনতার প্রস্তাব রাখতে দেখা যায় মন্ত্রীকে। রমেশ জারকিহোলির একটি অডিও ক্লিপও প্রকাশ্যে এসেছে।

মঙ্গলবার সেই ভিডিও ও অডিও ক্লিপ সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। পরে দীনেশ কালাহাল্লি নামে এক সমাজকর্মী ওই তরুণীর তরফ থেকে বেঙ্গালুরুর কাব্বন পার্ক থানায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিজেপি যখন পাঁচ রাজ্যে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক সেই সময়ই এমন যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও ফাঁস হওয়াতে স্বাভাবিক ভাবেই চরম অস্বস্তিতে দল। এমনকী একদিন পরেই কর্নাটকে শুরু হতে চলেছে বাজেট অধিবেশন।

কর্নাটকের বেলাগাভি ও মাসকি লোকসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনও রয়েছে শীঘ্রই। কর্নাটকের গোকাক বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অভিযুক্ত এই বিজেপি মন্ত্রী। এমনকী বেলাগাভিতে দলের প্রধানও রমেশ জারকিহোলি। বেলাগাভি অঞ্চলের বিধায়ক ৬০ বছরের জারকিহোলি ইয়েদুরাপ্পা মন্ত্রিসভায় বেশ প্রভাবশালী মন্ত্রী। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবাকুমারের সঙ্গে আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক হলেও একসময় ভালো বন্ধু ছিলেন তাঁরা। ২০১৯ সালে কংগ্রেস এবং জনতা দলের ১৭ জন বিধায়ক ভাঙিয়ে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন এই অভিযুক্ত মন্ত্রী। কংগ্রেস-জনতা দল জোট সরকার পতনের নেপথ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল তাঁর।