শাঁখা ও সিঁদুর ব্যবহারের আধ্যাত্মিক কারণ তো জানেন , বৈজ্ঞানিক কারণ জানা আছে কি?

শাঁখা ও সিঁদুর ব্যবহারের আধ্যাত্মিক কারণ তো জানেন , বৈজ্ঞানিক কারণ  জানা আছে কি?

প্রথানুযায়ী হিন্দু মহিলারা বিয়ের পর শাঁখা ও সিঁদুরের ব্যবহার করে থাকে।প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু সংস্কৃতিতে এই প্রথা চলে আসছে।  এই দুটি  জিনিস ছাড়া হিন্দু ধর্মের বিবাহ অসম্পূর্ণ। আধ্যাত্মিক কারণ অনুযায়ী শাঁখার সাদা রং সত্য, সিঁদুরের লাল রং  রজঃ এবং লোহার কালো রং তম গুণের প্রতীক। সংসারী লোকেরা তিনটি গুণের অধীন হয়ে সংসার ধর্ম পালন করে। এছাড়াও এগুলো স্বামীর মঙ্গল চিহ্ন হিসাবে হিন্দু মেয়েদের কাছে পরিগনিত হয়। সামাজিক কারণ অনুসারে  এই তিনটি জিনিস পরিধান করলে প্রথম দৃষ্টিতেই জানিয়ে দেয় ঐ রমণী একজন পুরুষের অভিভাবকত্বে আছেন।

সে কারণেই অন্য পুরুষের লোভাতুর  দৃষ্টি প্রতিহত হয়। আবার মায়েদের বিশ্বাস অনুযায়ী, শাঁখা-পলা মেয়েদের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির ধারক ও বাহক। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মানব শরীরের কপালে অবস্থান করেন স্বয়ং ব্রহ্মা। তাই ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যবহার করা হয় লাল রংয়ের সিঁদুর। তবে শাঁখা, পলা, সিঁদুর, লোহা পরিধানের বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে । রক্তের ৩টি উপাদানের মধ্যে শাঁখায় ক্যালসিয়াম, লোহায় আয়রণ , সিঁদুরে মার্কারি বা পারদ আছে। রক্তের ৩টি উপাদান মায়েদের মাসিক রজঃস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। তিনটি জিনিস নিয়মিত পরিধানে রক্তের সে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বর্ণিত রয়েছে, শঙ্খাসুর নামক একজন অত্যাচারী অসুর ছিলেন।  দিনের পর দিন শঙ্খাসুরের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে অসহায় দেবতাগণ শরণাপন্ন হন ভগবান নারায়ণের। ভগবান নারায়ণ দেবতাগনের রক্ষার্থে হত্যা করেন শঙ্খাসুরকে। শঙ্খাসুর অত্যাচারী হলেও তাঁর স্ত্রী তুলসী ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তপস্যা শুরু করেন শঙ্খাসুরের প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য। তারপর  তুলসীর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে  ভগবান নারায়ণ শঙ্খাসুরের হাড় দিয়ে বানিয়ে দেন শাঁখা। হিন্দু ধর্ম  অনুযায়ী সেই দিন শুরু হয়েছিল  শাঁখার ব্যবহার।