দূর্বাঘাসের উপকারীতা জানলে আপনি ও অবাক হবেন

দূর্বাঘাসের উপকারীতা জানলে আপনি ও অবাক হবেন

পুরাণে এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে কল্যাণের প্রতীকরূপে দূর্বাকে গ্ৰহন করা হয়েছে। আগাছা হিসেবেই বিবেচিত হয় দুর্বা ঘাস। যেখানে সেখানে যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে এই ঘাস। কিন্তু এই আগাছার রয়েছে মূল্যবান ঔষধি গুণ। এটি মানবদেহকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রক্তক্ষরণ, কেটে যাওয়া বা আঘাতজনিত রক্তপাত, চুল পড়া, চর্মরোগ, দন্তরোগ ও আমাশয়ে বেশ উপকারী। দূর্বা ঘাস যে যে কাজে ব্যবহৃত হয়–

শারীরিক জখমে দূর্বা ঘাস: শরীরের ক্ষতস্থানে দূর্বা ঘাস পেস্ট বানিয়ে লাগালে দ্রুত আরোগ্য হয়। এছাড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে দূর্বা ঘাসের রস উপকারী।

চুল পড়া রোধে দূর্বা ঘাসের উপকারীতা: চুল পড়া বন্ধের জন্য একটি পাত্রে এক লিটার নারিকেল তেল মৃদু তাপে জ্বাল করে ফেনা ফেলে নিন। তারপর দূর্বার ঘাসের টাটকা রস ২০০ মিলি সম্পূর্ণ তেলে মিশিয়ে ফের জ্বাল দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে সংরক্ষণ করুন।গোসলের ১ ঘণ্টা আগে ওই তেল চুলে মাখুন। নিয়মিত ২ থেকে ৩ মাস ব্যবহার করলে চুলপড়া বন্ধ হবেই।

আমাশয় দূর করতে দূর্বা ঘাসের উপকারীতা: আমাশয়ে দূর্বা ঘাসের রস ২ থেকে ৩ চামচ ডালিম পাতা কিংবা ডালিমের ছালের রস ৪ থেকে ৫ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার খান। এভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যাবে।

চর্ম রোগে দূর্বা ঘাস: দূর্বা ঘাসের এন্টিসেপটিক এবং এন্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই চর্মরোগে যেমন চামড়ায় লাল লাল ফুসকুড়ি, চুলকানি, এটপিক ডার্মাটাইটিস যা একজিমা বা বিখাউজ নামেও পরিচিত, কুষ্ঠ, পাঁচড়া, হার্পিস সিমপ্লেক্স, ত্বকের বিবর্ণতা ইত্যাদি প্রতিরোধে দূর্বা ঘাস উপকারী।

বমিভাব দূর করতে: বমি বমি ভাব বন্ধের জন্য দূর্বা ঘাসের রস ২ থেকে ৩ চামচ ১ চা চামচ চিনির সঙ্গে মিশিয়ে ১ ঘণ্টা পর পর খাবেন। বমি ভাব কেটে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত। 

সন্তান ধারণে: দুর্বা ঘাস সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনাময় ওষুধ। গর্ভধারণে অসমর্থ হলে দুর্বা ও আতপ চাল এক সঙ্গে বেটে বড়া করে ভাতের সঙ্গে সপ্তাহে তিন-চারদিন খেলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চোখের সংক্রমণে দূর্বা ঘাস: চোখের সংক্রমণ যেমন চোখ জ্বালাপোড়া, কন্‌জাঙ্কটিভাইটিস বা চোখ উঠা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দূর্বা ঘাস উপকারী। এক্ষেত্রে দূর্বা ঘাস ফুটিয়ে জলটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

স্নায়ুজনিত রোগে দূর্বা ঘাস: দূর্বা ঘাসের রস স্নায়ুতন্ত্র ছন্দময় রাখতে সাহায্য করে৷ মৃগীরোগের খিঁচুনি ও মানসিক বিকারজাত শারীরিক ব্যাধিতে দূর্বা ঘাস কার্যকরি।দূর্বাঘাস শুধুমাত্র প্রাণিদেরই খাদ্য নয়। এটি পুষ্টিকর ঔষধগুণে ভরপুর হওয়ায় মানুষের ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।