অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের আমেরিকায় পাচারের অভিযোগে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার এক বাংলাদেশি

আজবাংলা নিউইয়র্ক মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলন মিয়া নামের এই বাংলাদেশি ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালে আগস্ট পর্যন্ত ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে অর্থের বিনিময়ে টেক্সাস সীমান্ত পার করে আমেরিকায় প্রবেশ করিয়েছেন মিলন মিয়া নামের ঐ বাংলাদেশি।মানবপাচারের অভিযোগে মেক্সিকোর তাপাচুলার বাসিন্দা এই বাংলাদেশি নাগরিককে গত ৩১ আগস্ট টেক্সাসের হিউস্টনের জর্জ বুশ বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়। মেক্সিকোর তাপাচুলায় একটি হোটেল রয়েছে ঐ বাংলাদেশি মিলন মিয়ার। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাখেন, খাবার ও আশ্রয় দেন। পরে তাদের উড়োজাহাজের টিকিট দেন মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার। সেখানে পাচারকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া হয় ওইসব বাংলাদেশি দেরকে। পরে ওই পাচারকারীরাই ওই সব ব্যক্তিকে মার্কিন সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যায়। গত সপ্তাহে মানবপাচারে মিলন মিয়ার অন্যতম সহযোগী মোক্তার হোসেন দোষ স্বীকার করেন। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনের (এইচএসআই) ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) স্পেশাল এজেন্ট শেন ফোলডেন বলেন, ‘জাতীয় ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কাজের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে মিলন মিয়ার গ্রেপ্তার। আন্তর্দেশীয় অপরাধ চক্র, যা আমাদের দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের প্রতিহত করতে এইচএসআইয়ের তদন্তকাজ অব্যাহত থাকবে। আমাদের সীমান্তের অখণ্ডতা ও আমাদের সম্প্রদায়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে।’ ৩ সেপ্টেম্বর মিলন মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। টেক্সাসের ম্যাজিস্ট্রেট ডেনা এইচ পামেরোর আদালতে প্রাথমিক শুনানির পর আদালত তাঁকে লারেডোয় স্থানান্তরের আগে আটক রাখার আদেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে এইচএসআই লারেডো তদন্ত করছে। এ ক্ষেত্রে মেক্সিকো সিটি, মনটারি, হিউস্টন ও ক্যালিক্সিকো এইচএসআই, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, বর্ডার পেট্রল এবং ইউএস মার্শাল সার্ভিস সহায়তা করছে। পুরো তদন্তকাজটি বিচার মন্ত্রণালয়ের ফৌজদারি বিভাগ ও এইচএসআইয়ের আওতাধীন এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল ক্রিমিনাল ট্রাভেল স্ট্রাইক ফোর্স (ইসিটি) প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকান অভিবাসীদের এ সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ এর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমেরিকার জনসংখ্যা ৩২ কোটি ৪৫ লাখ। অপরদিকে বিশ্বের ২০০টি দেশে জন্মগ্রহণকারী ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অভিবাসী হিসেবে বাস করছে আমেরিকায়, যা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। অভিবাসী এ জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ আছেন যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তবে আমেরিকায় বৈধ কাগজপত্র নেই বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন সাময়িকী লস এঞ্জেলস টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাটিন আমেরিকা হয়ে মেক্সিকোর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানীদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঢোকার সংখ্যা প্রচণ্ড বেড়ে গেছে। ইমিগ্রেশন রিফর্ম ডট কম নামে সংস্থার ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন গবেষণা বিভাগের প্রধান ম্যাট ও ব্রায়েন।বাংলাদেশীদের নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মি ব্রায়েন। তার উদ্বেগের দুটো কারণ তিনি দেখিয়েছেন - এক, আইসিস এবং আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (এ কিউআইএস) এবং আরো কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী বাংলাদেশে তৎপর এবং এরা বাংলাদেশ থেকে সদস্য সংগ্রহ করছে। "সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা এসব অবৈধ অভিবাসীদের কারো কারো সাথে ঐ সব সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ থাকতে পারে।" দুই, যদি বাংলাদেশের মত দূরবর্তী একটি দেশ থেকে লোকজন ল্যাটিন আমেরিকায় ঢুকে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুতে যেতে পারে, তাহলে অন্যান্য যেসব দেশে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা রয়েছে সেখানকার লোকজনও উৎসাহিত হয়ে একই পথ নিতে পারে। লস এঞ্জেলস টাইমস লিখেছে - দক্ষিণ এশীয় এসব অবৈধ অভিবাসীরা প্রধানত দুবাই থেকে চার্টার্ড বিমানে ব্রাজিলে এসে নামে। তার পর সেখান থেকে স্থলপথে বলিভিয়া, পেরু, একুয়েডর, পানামা সিটি এবং গুয়েতামালা হয়ে মেক্সিকোতে ঢোকে।সীমান্ত দিয়ে রক্ষীদের চোখ এড়িয়ে ঢুকতে না পারলে, অনেক সময় ধরা পড়ে যায় অথবা নিজেরাই ধরা দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চায়।