আমফানের মতোই বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষা করছে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ৷

আজবাংলা    আমফান তছনছ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে৷ তিন দিন হতে চলল৷ এখনও রাজ্যের বহু এলাকা বিদ্যুত্‍হীন, জল নেই৷ মানুষের মাথার উপর ছাদ নেই৷ মৃত বাড়ছে লাফিয়ে৷ কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি, আমফানের মতোই আরও বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে বঙ্গোপসাগরে৷ বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড়গুলি তৈরি হয়, সেগুলি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন৷ ঘূর্ণিঝড়েরও একটি জীবনশৈলী থাকে৷ গড়ে একটি সাইক্লোন সক্রিয় থাকে ৯ থেকে ১০ দিন৷ তিনটি স্টেজ থাকে, ফর্ম্যাটিভ বা ইমম্যাচিওর, ম্যাচিওর ও ডিকে৷ ঘূর্ণিঝড়ের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল তাপ৷ সমুদ্র স্তরের একটা বড় অংশে তাপের সঞ্চার হলে বা গরম হয়ে গেলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়৷দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় শক্তিশালী হাওয়া৷ ওই হাওয়া সমুদ্রের তেতে যাওয়া অংশটি পূরণ করতে ছোটে৷ ওই অংশটিকে বলা হয় চোখ৷ এই সময়েই ঝড়টি সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়৷ তৃতীয় পর্যায়টি হল প্রাপ্তবয়স্ক বা ম্যাচিওর৷ এই স্টেজেও সাইক্লোনটি সাগরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে৷ এরপরের স্টেজ হল ডিকে৷ এবার সাইক্লোনটি স্থলভাগের দিকে যাত্রা শুরু করে৷ কিংবা সাগরের ঠান্ডা জলের অংশের দিকে দৌড়তে শুরু করে৷ যদি আমফানের মতো স্থালভাগের দিকে দৌড়য়, তা হলে তুমুল ধ্বংসলীলা চালাবেই৷ এবং ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় প্রবল বৃষ্টি৷ ১৬ বছর আগে ২০০৪ সালে আমফানের নামকরণ করেছিল থাইল্যান্ড৷ নিয়ম হল, যে মহাসাগর বা সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার আশপাশের দেশগুলিই নামকরণ করে ঝড়ের৷ ২০০০ সালে নামকরণের নিয়মটি তৈরি করা হয়৷ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ ঠিক করার গোষ্ঠী দেশগুলির মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড রয়েছে৷ ২০১৮ সালে এই সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ে৷ যুক্ত হয় আরও ৭টি দেশ৷ আমফানের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম নিস্বর্গ৷ নাম দিয়েছে বাংলাদেশ৷ তারপরের ঝড়টির নাম গতি৷ নাম দিয়েছে ভারত৷ তারপর আসবে নিভার৷ এই নামটি দিয়েছে ইরান৷