জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্রের ভাষায় ক্ষুব্ধ নদীয়ার চারবারের বিধায়কের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি

মহুয়া মৈত্র
মহুয়া মৈত্র

আজবাংলা কৃষ্ণনগর লোকসভা ভোটের পরই কৃষ্ণনগরে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে।কিন্তু সাংগঠনিক কাজের শুরুতেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন কৃষ্ণনগরে সাংসদ মহুয়া মৈত্র । দলীয় সূত্রে খবর, অগস্টে কৃষ্ণনগর লোকসভার অন্তর্গত দলের সব ব্লক সভাপতি ও অঞ্চল সভাপতিকে চিঠি লেখেন মহুয়া। তাতে সেপ্টেম্বর মাসে এই দুই স্তরে সাংগঠনিক বৈঠকের নির্দেশ দেন। তাতে ব্লক কমিটিগুলিকে বলা হয় ১ ও ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধান, বুথ, জেলা পরিষদ ও অঞ্চল সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক সারতে হবে। একইভাবে অঞ্চল কমিটিকে বলা হয় ২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর অঞ্চল কমিটির বৈঠক করতে হবে। এবং দুই বৈঠকের প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ইংরেজিতে লেখা এই চিঠির শেষে ‘বাই অর্ডার।’ তার নীচে লেখা, মহুয়া মৈত্র। এই ভাষা নিয়েই ক্ষুব্ধ জেলা দলের নেতারা।সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে নাকাশিপাড়ার চারবারের বিধায়ক কল্লোলবাবু লিখেছেন, যে ভাষায় দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। এটা কর্পোরেট সংস্থার ভাষা।এমনিতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি ঘিরে মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে বিড়াম্বনায় তৃণমূল। নদিয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। মাঝেমধ্যে তা প্রকট হয়ে পড়ে। তার পর রয়েছে বিজেপি ফ্যাক্টর। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে জেলার অনেক জায়গায় বিজেপির প্রভাব বেড়েছে।প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনে জয়ী হয়ে জেলায় তৃণমূলের মুখরক্ষা করেছিলেন মহুয়া। তবে নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর ব্যবহার নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভ ছিল। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের এড়িয়ে তিনি নিজস্ব ‘টিম’ নিয়ে কাজ করছেন বলে ভোটের আগেই দলনেত্রীর কাছে অভিযোগ করেছিলেন ওই নেতারা। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার সাত দিন পরে ১০ মার্চ মহুয়া প্রথম করিমপুরে পা দিয়েছিলেন। ভোটের আগে মাত্র ৩৯ দিনে নিজের কেন্দ্রের ২৬৯ টি বুথে ভোটের প্রচারে প্রতিটি মানুষের দরজায় পৌঁছেছিলেন। তাঁর টানা, পরিশ্রসাধ্য প্রচার সবাইকে চমকে দিয়েছিল। একটানা ৩৯ বছর সিপিএমের দখলে থাকা করিমপুর দখল করেছিলেন বাম প্রার্থী সমরেন্দ্র নাথ ঘোষকে হারিয়ে।সেই মহুয়া মৈত্র আজ কৃষ্ণনগরে সাংসদ ও কৃষ্ণনগর জেলার সংগঠনের সভাপতি । গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলা তৃণমূল ও রাজ্য নেতৃত্বও চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে যোগাযোগ যায়নি ।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!