ইসরোর মহাকাশ যাত্রার ইতিহাসে সৌর সন্ধানে এবার সূর্যকে ছুঁতে পাড়ি দেবে আদিত্য এল-১

আদিত্য এল-১
আদিত্য এল-১

আজবাংলা সূর্যের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে নাসার মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। মহাকাশ যাত্রার ইতিহাসে এমন পদক্ষেপ এর আগে দেখা যায়নি। নাসার গৌরবময় এমন পদক্ষেপের মধ্যেই খবর, এবার সূর্যের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার কথা ভাবছে ইসরোও। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মহাকাশে পাঠাবে আদিত্য এল-১ নামের একটি যান। সর্বাধুনিক এই উপগ্রহ সূর্যের ঠিক নাকের ডগায় বসে তার যাবতীয় অভিসন্ধির কথা সোজা সাপ্লাই করে দেবে নীল-গ্রহে।এই অভিযান সফল হলে, মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে পাকাপাকি ভাবে সেরার শিরোপাটা ছিনিয়ে নেবে ভারত। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছেন, ‘‘পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝের এক কক্ষপথ ‘ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্ট’ বা ‘ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট’-এ ল্যান্ড করবে স্যাটেলাইট আদিত্য এল-১। সূর্যের বাইরের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্তর করোনার যাবতীয় তথ্য সে তুলে দেবে আমাদের হাতে। এই সোলার-মিশন তাই সবদিক দিয়েই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’ ২০২০ সালের প্রথম দিকেই সূর্যের দিকে পাড়ি জমাবে আদিত্য এল-১। মহাকাশবিজ্ঞানীদের কথায়, এই কক্ষপথে সূর্য ও পৃথিবী, দু’জনেরই অভিকর্ষজ বল সমান ভাবে ক্রিয়াশীল থাকে এবং তৃতীয় কোনও বস্তুর উপর সেটা প্রভাব ফেলে। ১৭৭২ সালে ইতালীয় গণিতজ্ঞ জোসেফ-লুইস ল্যাগরেঞ্জ এই কক্ষপথের কথা বলেছিলেন, যেখানে বিশেষ ভাবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন এই পয়েন্টের ‘থার্ড বডি প্রবলেম’-এর কথা। আদিত্য এল-১ কে তাই সে ভাবেই বানানো হচ্ছে যাতে কক্ষপথের বিপুল চাপ সহ্য করে অন্তত এক বছর ধরে ছবি ও যাবতীয় তথ্য সে অবিরাম পাঠিয়ে যেতে পারে।ইসরো জানিয়েছে, সূর্যের করোনার তাপমাত্রা গড়ে ১০ লক্ষ বা তার কিছু বেশি ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা সব সময় একরকমের থাকে না। কখনও বাড়ে, কখনও কমে। এই ধাঁধার উত্তর খুঁজবে আদিত্য এল-১।