রাতভোর তাণ্ডবের পর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের সাতক্ষীরার দিকে৷

লণ্ডভণ্ড
লণ্ডভণ্ড

ঋত্বিক দাস আজবাংলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা – : শনিবার সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে আছড়ে পরেছে বুলবুল ঝড় !! রাতভোর তাণ্ডব চালানোর পর শক্তি হারিয়ে আপাতত বাংলাদেশের দিকে ঘুরে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। বিপদ কেটে গিয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের। সকালের দিকে আংশিক মেঘলা আকাশ, দমকা হাওয়া এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রবিবার সকাল থেকেই ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে আকাশ। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, সকালের দিকে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। বিকেলের মধ্যেই সম্পূর্ণ কেটে যাবে দুর্যোগ।

বাংলাদেশ খুলনা সূত্র থেকে জানা যায় আগেভাগেই জারি হয়েছিল সর্বচ্চো মহা বিপদ সতর্কতা-১০, তার পরেও অনেককে আশ্রয় শিবিরে নেওয়া যায়নি৷ এদিকে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নির্ধারিত সময়েই প্রবল গতিবেগ নিয়ে হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশের উপকূলে৷ এর জেরে লণ্ডভণ্ড ভারত সীমান্ত লাগোয়া সাতক্ষীরা৷আবহাওয়া সূত্রে এও জানা যায় যে গতকাল রাত ১০.৩০ টা নাগাদ সুন্দরবন এলাকার ধনচি জঙ্গলে আছড়ে পরে ৷ আছড়ে পরার সময় বুলবুলের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিমি৷ এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় একলক্ষ মানুষ ৷ সাগরদ্বীপের রুদ্রনগর , গঙ্গাসাগর ধবলাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা , প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসে সাগরদ্বীপের উপর ৷ রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা রাত্রি এগারোটা নাগাদ প্রতিবেদককে জানান, সাগরদ্বীপে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটির মতো , শ্রী হাজরা জানিয়েছেন, পান বরজ মাটির বাড়ি গাছপালা ভেঙে পড়েছে রাস্তার ওপর l মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে প্রায় ছয় হাজার l পান বরজ এবং ধান প্রচুর ক্ষতি হয়েছে , প্রচুর ত্রিপল এবং খাবার প্রয়োজন , আমরা ভেবেছিলাম ঘোড়ামারা দ্বীপের উপর থেকে হয়ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আছড়ে পড়বে, কিন্তু সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই , এদিকে নামখানা ব্লকের মৌসুমী দ্বীপে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান সাগর বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা , রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সচিবের সাথে তিনি যোগাযোগ রাখছেন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখে চলেছেন l এদিকে ডায়মন্ডহারবার মহকুমা শহর জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চলছে বুলবুল ঝড়ের , বিদ্যুৎ নেই গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার নয়টি পয়েন্টে , সোমবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার ,কাকদ্বীপ থেকে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা আমাদের একান্ত সাক্ষাৎকার এ এই বিষয়ে জানান ৷৷ তিনি বলেন যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালি, পাথরপ্রতিমা অন্তর্গত জি-প্লট, নামখানা,কাকদ্বীপ তথা সাগরদ্বীপ সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷৷