৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও মালদায় ছাত্রীর দেহ গঙ্গা থেকে উদ্ধার করতে পারল না ডুবুরির দল

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা , ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও নাবালিকা ছাত্রীর দেহ এখনো গঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করতে পারল না ডুবুরির দল । রবিবার সকালে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডুবুরি নামানো হয়েছিল ভুতনি থানার মহেন্দ্রটোলা গ্রামের গঙ্গা নদীতে। দিনভর চলে ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের তোড়জোড়।  কিন্তু কোনভাবেই ডুবুরি দল ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করতে পারে নি বলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এদিকে ওই নাবালিকা ছাত্রী খুনের ঘটনায় ধৃত বাবা ধীরেন মন্ডল এবং মা সুমতী মন্ডলকে ভুতনি থানার পুলিশ মালদা আদালতের মাধ্যমে চার দিনের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তাদের কাছ থেকে একেক সময় একেক রকম কথাবার্তায় পুলিশকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, প্রথমে ধৃত ওই দম্পতি তাদের মেয়ে প্রতিমা মন্ডলকে খুনের কথা বললেও পরবর্তীতে তারা বিষয়টি স্বীকার করে নি । তারা জানিয়েছে তাদের মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল ।পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে মেয়ের দেহ গঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।এখানেই পুলিশের প্রশ্ন,  তাহলে কেন বস্তাবন্দী করে তাতে পাথর বেঁধে দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ধৃতেরা বলেছে, মেয়ের দেহ লোপাট করার উদ্দেশ্য ছিল তাদের। দেহ যেন কোনোভাবেই নদী পাড়ে ভেসে না ওঠে । তাই বস্তায় পাথর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা খুন করে নিজ।  গ্রামে তাদের সম্মান রয়েছে । ছোট জাতের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ করা নিয়ে মেয়ের সঙ্গে তাদের কথাকাটি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তারা খুন করে নি । পরবর্তীতে মেয়ে অভিমান করে আত্মঘাতী হয়েছে। ধৃতদের একেক সময় একেক রকম উত্তরে পুলিশের সন্দেহ বাড়ার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।পুলিশ জানিয়েছে , ওই নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে মহেন্দ্রটোলা গ্রামের কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। দেহটি উদ্ধার করা গেলে সেটি ময়না তদন্ত হওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসবে । তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।উল্লেখ্য,  মৃত নাবালিকা প্রতিমা মন্ডল (১৬) ভুতনি এলাকার পশ্চিম নারায়নপুর হাইস্কুলের নবম শ্রেণীতে পাঠরত ছিল। ওই নাবালিকার সঙ্গে মহেন্দ্রটোলা গ্রামেরই এক কিশোরের সম্পর্ক তৈরি হয় । আর এই সম্পর্ক মেনে নেয় নি ও ছাত্রীর পরিবারক। এনিয়ে প্রতিমাকে অনেকবার সাবধান করেছিল অভিযুক্ত বাবা ও মা । তাদের কথা না শোনার কারণে মেয়েকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বাবা ধীরেন মন্ডল এবং মা সুমতী মন্ডলের বিরুদ্ধে । এরপরই ওই নাবালিকার দেহ পাথর দিয়ে বস্তাবন্দি করে গঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।  এই ঘটনার পিছনে ছোট জাতের ছেলের সঙ্গে নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে । মৃত ছাত্রীর অভিভাবককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।