শুরু হয়ে গিয়েছে অম্বুবাচী, ভুলেও করবেন না এই কাজগুলি

আজবাংলা      আষাঢ় মাসের মৃগশিরা নক্ষত্রের তৃতীয় পদ শেষ হলেই, অর্থাৎ চতুর্থ পদের শুরু থেকে তিন দিন অম্বুবাচী আচার বা ব্রত পালন করা হয়।ধরিত্রী মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন। পূর্ণ বয়স্কা মহিলা যেমন ঋতুকালের পরে সন্তান ধারণে সক্ষম হন, ধরিত্রী মাতাও অম্বুবাচীর পর শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠেন। ধরিত্রী মাতা আমাদের সকলের জন্মদাত্রী। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই সময় কৃষিকার্য বন্ধ রাখা হয়। জমিতে কোনও রকম লাঙ্গল চালানো, জমি খোঁড়া বা সমস্ত ধরনের কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকা হয়।সন্ন্যাসী এবং বিধবারা এই তিন দিন বিশেষ ভাবে পালন করে থাকেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিন দিন কোনও মাঙ্গলিক কাজ করা হয় না। এই তিন দিন কেটে গেলে মাঙ্গলিক কাজ বা চাষের কাজে কোনও বাধা থাকে না। এই তিন দিন বন্ধ রাখা হয় মন্দিরের দ্বার। সোমবার সকাল ৭টা ৫৪ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে অম্বুবাচী সমাপ্ত হবে ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১৮ মিনিটে। এই সময়ে কোনও বিশেষ পুজো হয় না। মূলত কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, বিপত্তারিণী, শীতলা, চণ্ডীর মূর্তি কিংবা পট লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখাই নিয়ম। এই সময়ে পুজো করতে করতে মন্ত্রপাঠ করা অনুচিত। শুধুমাত্র ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রণাম করতে হয়।অম্বুবাচীতে বাড়িতে কোনও শুভ কাজ না করাই শ্রেয়। বৃক্ষরোপণ কিংবা কৃষিকাজও এই সময়ে করতে নেই। অম্বুবাচীতে কী করতে পারবেন না তা তো জানলেন। এবার বরং জেনে নিন অম্বুবাচীর এই তিনদিন কী কী কাজ করলেও আপনার সংসারের কোনও ক্ষতি হবে না।অম্বুবাচীতে গুরুপুজো করতে পারবেন।গুরু প্রদত্ত মন্ত্রও অনায়াসে জপ করতে পারবেন। অম্বুবাচীতে তুলসী গাছে গোড়ার দিকে নজর দিন। ভাল করে মাটি দিয়ে উঁচু করে দিন গোড়া। শাক্তমন্ত্রে দীক্ষিতরা মন্ত্র পাঠও করতে পারেন। অম্বুবাচীর পর দেবীদের আচ্ছাদন খুলে নিতে ভুলবেন না। তারপর দেবীমূর্তি ভাল করে স্নান করিয়ে পুজো করবেন। দেবীকে আম এবং দুধ নিবেদন করলেই ভাল হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সূর্য যে বারে যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করেন, ঠিক তাঁর পরবর্তী বারের সেই কালে পালিত হয় অম্বুবাচী। অম্বুবাচী ব্রতটি বিভিন্ন প্রদেশের মানুষ পালন করে থাকলেও অসমের কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচীকে কেন্দ্র কেন্দ্র করে বিশাল উৎসব অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে। তবে, এই বছর করোনা মোকাবিলায় ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকছেকামাখ্যা মন্দির। হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তীর্থক্ষেত্র ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম। মন্দিরের ইতিহাসে এই প্রথম অম্বুবাচী মেলা অনুষ্ঠিত হবে না।অম্বুবাচীর সময় অসমের কামাক্ষ্যা মন্দিরে বিশেষ উৎসব পালন করা হয়। সতীপিঠের অন্যতম কামাক্ষ্যা মায়ের মন্দির তন্ত্র সাধনার অন্যতম পীঠ। এই স্থানে দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি পড়েছিল। অম্বুবাচীর এই তিন দিন এই মন্দিরে বিশেষ উৎসব পালন করা হয়। এই তিন দিন দেবীর মন্দির বন্ধ থাকলেও চতুর্থ দিনে দেবীর মন্দির সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।