অপর্ণা সেন এবং ঢাকাই জামদানী!

অপর্ণা সেন
অপর্ণা সেন

শিতাংশু গুহ, আজবাংলা নিউইয়র্ক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তখন নিহত হয়েছেন। আমরা কলকাতায় পাড়ি জমিয়েছি। সম্ভবত: ১৯৭৬-এ পত্রিকায় দেখতাম, ‘সুরূপা গুহ হত্যা’ নিয়ে ধারাবাহিক খবর। ওই মামলায় ইন্দ্রনাথের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়, নায়িকা অপর্ণা সেন খালাস পান। ধনাঢ্য ইন্দ্রনাথ ছিলেন সুরূপার স্বামী, অপর্ণা সেন বান্ধবী বা প্রেমিকা। একটি প্রেমের কারণে দু’টি প্রাণ এবং একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। ঠাট্টা করে অনেকে বলেন, মমতা ব্যানার্জি বিয়ে করলে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতো, বিয়ে না করায় তিনি একটি রাজ্য ধ্বংস করে দিচ্ছেন। ঠাট্টা তো ঠাট্টাই? আমার দিদি’র আসলে অনেক গুন্? এক অনুষ্ঠানে আমার দিদি’র প্রশংসা করায় মঞ্চে বসা প্রধান অতিথি ডঃ তথাগত রায় বলে উঠেন, ‘শিতাংশু, আপনার দিদি আর দিদি নেই, বেগম হয়ে গেছেন’! নায়িকা অপর্ণা সেন’র আমি ভক্ত। সুচিত্রা উত্তর কলকাতার বাংলা সিনেমা জগতে অন্তত: আমার কাছে অপর্ণা সেনকে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের যোগ্য উত্তরসূরি মনে হয়েছিলো। সৌমিত্রের জন্যেও একই কথা। সদ্য তাদের একটি বিবৃতি চোখে পড়েছে। তাদের পাল্টা আর একটি বিবৃতিও দেখলাম। ভালো লেগেছে,আশা ভোঁসলের কৌতূহল, ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ গানটি গাইতে পারবো তো? ম্যুভিটি আমি দেখেছিলাম, সম্ভবত: দেবানন্দ-জিনাত আমান? গানটি হচ্ছে, ‘দম মারো দম, বলো শুভাষাম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম’। ডুয়েট এ গানের পরবর্তী কলি হচ্ছে, ‘দেখো ও দিওয়ানে, ইয়ে কাম না করো, রাম কি নাম বদনাম না করো’। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান নিয়ে বেশ ভালোই অগ্রগতি করেছে। এই শ্লোগান দেয়া যাবেনা কেন? অপর্ণা সেন-সৌমিত্ররা এই শ্লোগানের বিপক্ষে সোচ্চার, কিন্তু তাঁরা তো ‘আল্লা-হু-আকবার’ শ্লোগানের বিরুদ্ধে টু-শব্দটি করছেন না? দু’টিই ধর্মীয় শ্লোগান, একটি’র বিরোধিতা করবেন, অন্যটি’র ব্যাপারে চুপ থাকবেন, তা-তো হয়না! কোথাও কোথাও ‘জয় শ্রীরাম’ বলে বাড়াবাড়ি হচ্ছে, অন্যদের জোর করে তা বলানোর চেষ্টা হচ্ছে, এটি দু:খজনক, এবং বন্ধ হওয়া দরকার। গানের তালে তালে বলা যায়, রাম নাম বদনাম করার অধিকার কারো নেই। রাম একটি আদর্শের নাম। রাম রাজ্য একটি আদর্শ রাষ্ট্র। যেখানে রাজা রাম শত্রূর যম, এবং প্রজার সেবক। পশ্চিমবঙ্গের সেলিব্রেটিদের ভীমরতি ধরেছে। কবির সুমনের মত কুলাঙ্গারও নাকি সেলিব্রেটি? সুবিধাটা হচ্ছে, জয় শ্রীরামের বিরুদ্ধে বললে ‘মাইর’ খাওয়ার ভয় নেই; কিন্তু আল্লাহ-হু-আকবরের বিরুদ্ধে বললে খবর আছে? জয় শ্রীরাম বলে এখন পর্যন্ত কতজন মানুষ মরেছে (একজনও মারা উচিত নয়)? আর আল্লাহু-আকবার রবে গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার মানুষ মরেছে? আপনি কি দেখেছেন কোন মুসলমান ‘আল্লাহু-আকবরের’ বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে? পশ্চিম বাংলার বুদ্ধিজীবীদের এই উন্মাষিকতা কেন? প্রগতিশীলতা ভালো, কিন্তু একটি ধর্মকে কটাক্ষ করে, অন্যগুলোর ব্যাপারে নীরবতা সন্দেহজনক। একে বলে, ‘তোষণ’। মমতা ব্যানার্জী মুসলমানদের তোষণ করছেন। এই তোষণের রূপটা বড়ই কদর্য। মমতা কি তাঁর দুই টার্মে বাংলাদেশের নির্যাতিত সংখ্যালঘু’র পক্ষে একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন? পশ্চিমবাংলার তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা কি কখনো বাংলাদেশের নিপীড়িত হিন্দুদের পক্ষে একটি বিবৃতি দিয়েছেন? সদ্য বাংলাদেশের এক নারী প্রিয়া সাহা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-কে বলেছেন, যে বাংলাদেশ থেকে ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু হারিয়ে গেছে। গোটা বাংলাদেশ তাঁর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কই, আপনাদের তো কোন সাড়াশব্দ শুনছি না? হিন্দুদের পক্ষে কথা নাইবা বললেন, একজন নারীর পক্ষে কথা বলুন, অপর্ণা সেন, শাবানা আজমী? তিন তালাক বিল পাশ হয়েছে, নারীমুক্তি’র এই সনদের পক্ষে আপনাদের বিবৃতি কই? গত শুক্রবার ২৬শে জুলাই ২০১৯ নিউইয়র্কে এক বাংলাদেশী মুহম্মদ দেলোয়ার হোসেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। মাত্র ক’দিন আগে আর এক বাংলদেশী সন্ত্রাসী আকায়েদুল্ল্যাহ গ্রেফতার হয়েছেন। এই তালিকা এখন বেশ লম্বা। এরা বিধর্মী মারতে চায়। যতই কমিউনিষ্ট বা প্রগতিশীল সাজুন, ওদের কাছে দিনশেষে আপনি ‘হিন্দু’। বাংলাদেশে চাপাতি’র কোঁপে বেশকিছু মুক্তমনা ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন। পাশের দেশে মরু সংস্কৃতি ঢুকে গেলে আপনার বঙ্গসংস্কৃতি রক্ষা পাবেনা! জানেন-ই তো নগরে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায়না। আপনাদের এই সুন্দর চেহারায় যাতে আঁচ না পরে সেজন্যও ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে বৈকি! দু:খ হয় আপনাদের নীরবতায়! কথা বলুন, প্লীজ! প্রণব মুখার্জী ভারতের রাষ্ট্রপতি, বিদেশমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকলে আমরা বহুবার অনুরোধ করেছি, ‘দাদা, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বাঁচান, একটু কথা বলুন। ভারতের নেতাদের আমরা বারংবার অনুরোধ করছি, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে একটু মুখ খুলুন, কেউ কথা রাখেনি। পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় মিডিয়ার একই অবস্থা। এখন অবশ্য, বিজেপি নেতারা একটু-আধটু কথা বলেছেন, তাদের ধন্যবাদ। বাংলাদেশের হিন্দুরা চায় বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসুন, এর কারণ একটাই? তাহলো, ভারত স্বাধীন হবার পর এ পর্যন্ত কংগ্রেস-বাম-তৃণমূল বাংলা শাসন করেছে, কেউ একটি শব্দ বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্যে ব্যয় করেননি। অথচ দেশটি হিন্দুশূন্য হয়ে যাচ্ছে! আমাদের পদ্মার ইলিশ ও ঢাকাই জামদানির কি এতোই গুন্?