আচমকা বয়ান বদল সিঁথি থানা কাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী আসুরা বিবির।

আজবাংলা    নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা বাদে খোঁজ মেলে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী আসুরা বিবির।পুলিসের বিরুদ্ধে রাজকুমার সাউকে মারধরের অভিযোগের পরেই উধাও হয়ে যান আসুরা। আসুরা বিবি ঘটনার পর দাবি করেন, তাঁর চোখের সামনেই ব্যবসায়ী রাজকুমার সাউকে মারধর করে পুলিস। এরপরই আচমকা উধাও হয়ে যান আসুরা বিবি। এদিন অবশ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে তাত্পর্যপূর্ণভাবে আগের দাবি নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

উল্টে মৃত রাজকুমারের ছেলের ভয়েই তিনি লুকিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেছেন আসুরা। পুলিসের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাতেই আসুরা বিবিকে উদ্ধার করে টালা থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে রাত্রিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।প্রসঙ্গত, থানার লকাপে তুলে নিয়ে গিয়ে ‘মারধরের’ চোটে  মৃত্যু হয়েছে রাজকুমার সাউয়ের। এমনই অভিযোগ করে পরিবার। রাজকুমার সাউয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয়ে ওঠে এলাকা।

প্রতিবাদে পথে নামে বিজেপিও। তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। এরপরই আচমকা উধাও হয়ে যান আসুরা। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছেন বলে বেরিয়ে আর ফেরেননি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।সোমবার রাতে রাজকুমার সাউয়ের মৃতু্যর পর কয়েকজন পুলিশকর্মী থানার পিছনের গেট দিয়ে আসুরাকে বের করে দেন। তাঁরাই তাঁকে সামনে নিয়ে আসেন। আসুরা তখন বলেন, তাঁকে এক পুলিশকর্মী ও এক মহিলা পুলিশকর্মী বলেন, এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার জন্য তাঁকে থানায় ডেকে পাঠিয়েছে।

তিনি তাই থানায় যান। তখনই তাঁকে বলা হয় যে, তিনি সিঁথির একটি বহুতল আবাসন থেকে চুরি করেছেন। তিনি চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তখন তাঁকে দিয়ে জোর করে বলিয়ে নেওয়া হয় যে, তিনি রাজকুমারকে চুরির জিনিস বিক্রি করেছেন।যদিও প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, আসুরা যে চুরির সঙ্গে যুক্ত, তার প্রমাণ মিলেছে সিসিটিভির ফুটেজ থেকে। ওই ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে, পেশায় কাগজকুড়ানি আসুরা বিবি তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে আবাসনে ঢুকে বস্তায় রাখা দামী কল, কলের পাইপ ও মার্বেল হাতিয়ে নেন।

যেহেতু তিনি অন্তঃসত্ত্বা, তাই তিনি ছেলেদের মাথায় দু’বস্তাভর্তি ওই জিনিসগুলি বাইরে পাচার করেন। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে আসুরা বিবি স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি ব্যবসায়ী রাজকুমার সাউয়ের কাছে বিক্রি করেছিলেন প্রায় একটি বিশেষ ব্র‌্যান্ডের দু’বস্তা দামী কল। এর পরই রাজকুমারকে থানায় নিয়ে আসা হয়। দু’জনকে বসিয়ে জেরা করা হয়। এবার গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, পুলিশ হেফজাতে মৃতু্য নিয়ে গোলমালের সময় কেন তাঁকে বাইরে যেতে দেওয়া হল। চুরির মূল অভিযুক্ত হলে আসুরাকে কেন গ্রেপ্তার করা হল না? কেনই বা পুলিশের খাতার পাতা ছিঁড়ে তালিকা পেশ করে অফিসাররা বললেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকার জিনিস কিনে আনতে?

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!