বাংলাদেশে বাড়ছে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা ও মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা।নির্বাক সারাবিশ্ব

হিন্দুদের দেব-দেবীর মূর্তি
হিন্দুদের দেব-দেবীর মূর্তি

সফিকুল আলম চৌধুরী ঢাকা আজবাংলা বাংলাদেশের ৩২ জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতায় নির্বাক সারাবিশ্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামের নবীকে হেয় করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে সহিংস বিক্ষোভ ও পুলিশের গুলির ঘটনার কিছু পরই সেখানকার হিন্দুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলা চালায় অসংখ্যক মুসলিম যুবক। চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার ৫নং সহদেবপুর ইউনিয়নের জাগির গ্রামের হিন্দু বাড়িতে ১৭ ই অক্টোবর,বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৭ঘটিকার সময় হামলা ও লক্ষ্মী নারায়ণ মূর্তি ভাংচুর করেছে একদল মুসলিম দুর্বৃত্ত।

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা আবুল কালাম আজাদের সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভয়ানক তথ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামের নবীকে হেয় করার অভিযোগকে ঘিরে বোরহানউদ্দিনে রবিবার সকালে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি সমাবেশে আসা লোকজনের সাথে এক পর্যায়ে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।এ সময় পুলিশ গুলি চালালে চার জন নিহত ও পুলিশসহ বহুলোক আহত হয়। এর আগে তিন দিন ধরে বোরহানউদ্দিনে বিক্ষোভ চলছিল।এই বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে গত কয়েকদিন অনেক আলোচনা চললেও, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা, উপাসনালয়ে হামলার এসব খবর মূলধারার গণমাধ্যমে খুব একটা উঠে আসেনি। বিবিসি সংবাদদাতা আবুল কালাম আজাদেকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঐ সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে নেবার পথে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানকার হাসপাতাল পাড়া বলে পরিচিত একটি এলাকায় হামলা চালায়।শুরুতে বাজারে একজন হিন্দু ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে।এরপর সেখানকার একটি মন্দির ভাঙচুর হয়।মন্দিরে হামলা চালিয়ে সবগুলো প্রতিমার মাথা ভেঙে ফেলে হামলাকারীরা।তছনছ করে মন্দিরের প্রধান মণ্ডপ, মন্দির চত্বরের ভিন্ন মণ্ডপে কালী প্রতিমা ভাঙচুর করে।এছাড়া মন্দিরের ভেতরের আসবাবপত্র এবং মন্দিরের ভেতরের রান্নাঘরেও ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এরপর একই এলাকার আটটি বাড়িতে হামলা চালায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এর মধ্যে দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তারা।পুড়িয়ে দেয় একটি মোটরসাইকেল।বোরহানউদ্দিন বাজারে শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রম নামক মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।সেখানে গত শনিবার কার্তিক-ব্রত নামে মাসব্যাপী এক উত্‍সব শুরু হয়। এখন অবস্থার প্রেক্ষাপটে সে উত্‍সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে হিন্দুরা। পুলিশ বলছে হিন্দুদের ওপর এরপরে যাতে আর কোন হামলা না হয়, সেজন্য তারা বিশেষ সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের ভোলার বোরহানউদ্দিন হোক বা চাঁদপুর জেলার কচুয়া, বাংলাদেশের ৩২ জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার পরেও চুপ কেন বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে থেকে বিশ্বের গণমাধ্যম।তার ব্যাখ্যা আজও অজানা।
তথ্যঃ বিবিসি

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!