পুলিশের হাতে চরম অত্যাচারের পর মৃত্যু হল এক অটো চালকের

আজবাংলা            বিভিন্ন ধরণের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন অনেকে | তারমধ্যেই আরও এক বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে গেল তামিল নাডুতে | তামিল নাড়ুর পুলিশ এক অটো চালককে ডেকে পাঠিয়েছিলেন জমি সংক্রান্ত বিরোধের মামলার তদন্তের জন্য | ওই অটো চালক থানায় যাওয়ার পড়ে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে তামিল নাড়ুর পুলিশ বেধড়ক মারধর করেন বলে জানা যায় | অটো চালকের নাম কুমারেসন | তার বয়স ২৫ বছর | জানা গিয়েছে, কুমারেসনকে তদন্তের সময় তামিল নাড়ুর পুলিশ তার ওপর অত্যাচার করেন |  তদন্তের একদিন পর সে বাড়ি ফিরে আসে এবং চুপ করে যান কারুর সঙ্গে কোন কথা বলছিলেন না ওই অটো চালক | বাড়ি ফেরার কিছুক্ষুণ পর থেকে সে রক্ত বমি করা শুরু করেন | সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় তামিল নাড়ুর সুরান্ডাইয় হাসপাতালে | তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার কারণে তাঁকে রেফার করা হয় তিরুনেলভেলি সরকারি হাসপাতালে | সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তাররা জানান, কুমারেসনের কিডনি ও প্লীহা খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গিয়েছে | তারপরেই জানা যায় তার ওপর কিভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছিল তদন্তের সময় থানাতে | ওই অটো চালক জানান, তার ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা পুলিশ জানাতে বারণ করেছিলেন | যদি সে সকলকে এই অত্যাচারের কথা জানিয়ে দায় তাহলে এবার তার বাবাকেও অত্যাচার করা হবে | সেই ভয়ে সে চুপ করেছিল কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ফিরে আসে এবং বাড়ি ফিরেও কাউকে কিছু জানায় নি | অবশেষে ওই অত্যাচারের ফলে হাসপাতালেই মারা যান ওই অটোচালক | সব কিছু প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রতিবাদ শুরু করেন কুমারেসনের স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পরিবারের লোকজন | আইপিসির ১৭৪ (৩) ধারায় দু'জন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে | তাদের মধ্যে একজন সব-ইন্সপেক্টর নাম চন্দ্রশেখর অন্য আরেকজন কনস্টবল কুমার | তিরুনেলভেলি মেডিকেল কলেজে ওই মৃত অটো চালকের ময়না তদন্ত করা হয় রবিবারে | তারপরে কুমারসানের মৃতদেহ তার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রবিবার বিকেল ৫:১৫ নাগাদ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় |