আমেরিকার বিপজ্জনক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভা বাংলাদেশি আগোমন দিন দিন বেরে চলেছে ।

মেক্সিকো হয়ে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ
মেক্সিকো হয়ে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ

আজবাংলা বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় বাংলাদেশ থেকে আদম পাচার বন্ধ হচ্ছে না। আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য টেক্সাসের সীমান্তে রয়েছে উন্মুক্ত নদী। সেই সীমান্ত একেবারে খোলা। এমন সীমান্ত শত শত মাইলের। এই পথটিকে ব্যবহার করছে অবৈধ অভিবাসীরা। লারেডো সাউথ বর্ডার পেট্রল স্টেশনে দায়িত্বপালনরত এজেন্টরা ১৯ নভেম্বর টেক্সাসের মাস্টারসন রোডে সন্দেহজনক চার অভিবাসীকে আটক করে। এ সময় লারেডো সেক্টর লাইন অপারেশনের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের জবানিতে বেরিয়ে আসে, ওই চার যুবক বাংলাদেশি। পরদিন সকালে একই সংস্থা আরও একটি অভিযান চালায়। লারেডোর ওলিয়ান্দার স্ট্রিটে তারা দেখতে পায়, দুজন যুবক সন্দেহজনকভাবে হাঁটাহাঁটি করছে। নিরাপত্তা রক্ষীরা তাদের কাছে যায়। তারা দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জাতীয়তা পরিচয় দিতে গিয়ে তারাও জানায়, তারা দুজনই বাংলাদেশি। এর আগে ২৯ অক্টোবর ইউএস মেরিনের একটি দল নদীতে টহলের সময় দেখতে পায়, চারজনের একটি দল আমেরিকার ভূখণ্ডে ঢুকতে সাঁতার দিয়ে নদী পার হচ্ছে। দূর থেকেই মেরিন সদস্যরা দেখে এই চারজন সাঁতার কাটতে পারছে না, প্রায় ডুবে যাচ্ছে। কাছাকাছি যাওয়ার পর মেরিন দলের নজরে পড়ে, দুজন এরই মধ্যেই তলিয়ে যাচ্ছে। পরে সবাইকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চারজনই স্বীকার করেন, দালালের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।  আমেরিকায় ঢোকার জন্য টেক্সাস সীমান্তজুড়ে হাজার হাজার অভিবাসী জমায়েত হয়েছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছেন। বলেছেন, দুষ্কৃতকারীরা অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করছে। অবৈধভাবে আমেরিকায় আসা অভিবাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া বন্ধের জন্য তিনি নির্বাহী আদেশও জারি করেছিলেন। যদিও ২০ নভেম্বর সানফ্রান্সিসকোর ফেডারেল জজ জন টিগার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৯ নভেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। আমেরিকার ১৫৬৫ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিস্ট অ্যাক্টে বলা আছে, বৈধ বা অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করা অভিবাসীরা এ দেশে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। ফেডারেল জাজের এই রায়ের কড়া সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস। এ নিয়ে প্রশাসন উচ্চ আদালতে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকায় বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক আবেদনের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার। ২০১৮ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজারে। এর অধিকাংশই দক্ষিণ আমেরিকার নানা দেশ থেকে আমেরিকায় আসা অভিবাসী। বিগত কয়েক বছর বাদ দিলে তার আগে বাংলাদেশিদের আমেরিকার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা তেমন আলোচনায় ছিল না। গত তিন বছরে প্রায় প্রতি সপ্তাহে সীমান্তের বিপজ্জনক অভিযাত্রায় প্রায় বাংলাদেশি ধরা পড়ছে। এসব ঘটনা নিয়ে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নাম আসছে নিয়মিত। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রাণহানির খবরও বেরিয়েছে একাধিক। আমেরিকার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি সীমান্ত থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সীমান্তে আটক বাংলাদেশিদের সংখ্যাও। বিশেষত টেক্সাসের ল্যারিডো সীমান্তে বাংলাদেশিরা বেশি আটক হচ্ছেন। ল্যারিডো সীমান্তে টহলকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রিও গ্রেনডি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অবৈধভাবে প্রবেশে ইচ্ছুকদের অধিকাংশই বাংলাদেশি, টহলদার বাহিনীর স্থানীয় সহকারী প্রধান গ্যাব্রিয়েল অ্যাকোস্টা বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা সারা পৃথিবী থেকে প্রতি দিন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটক করছে। মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের আমেরিকায় ঢোকার এই পরিসংখ্যানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী বৃহত্তম এবং প্রভাবশালী সংগঠন ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্মস (এফএআইএ)। ইমিগ্রেশন রিফর্ম ডটকম নামে সংস্থার ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন গবেষণা বিভাগের প্রধান ম্যাট ও ব্রায়েন।বাংলাদেশিরা মূলত মেক্সিকো হয়ে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে। এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়। এ বছর বাংলাদেশিরা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রবেশ করছেন। ২০১৮ সালের শুরু থেকে ল্যারিডো সীমান্ত প্রহরীরা ১২২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছেন।’ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি আটকের ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তাদের মতে, বিভিন্ন সীমান্তে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। এদের মাধ্যমে সীমান্ত পার হতে গিয়ে অনেক সময় মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া আমেরিকায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তো রয়েছেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমেরিকায় বিদ্যমান বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে ওঠে।