বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম আর নেই

বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম
বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম

সাইফুর রহমান সাইফ, আজবাংলা, যশোর: বর্ষীয়ান রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার বিকেল পাঁচটার কিছু সময় পর তিনি মারা যান। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় বেশ কিছুদিন আগে তাকে অ্যাপোলোতে ভর্তি করা হয়েছিল।
তরিকুল ইসলামের ভাইপো ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম বিকেলে অ্যাপোলো হাসপাতালেই ছিলেন। সেখান থেকে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটের দিকে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে মিনিট দশেক আগে চাচা মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় আমি তার কাছেই ছিলাম।’ যশোর নগর বিএনপি সভাপতি মারুফ জানান, আজ ডায়ালিসিস দেয়ার সময় তরিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দুপুরের দিকে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেন, ডায়ালিসিস দেওয়ার সময় তার ‘হার্ট অ্যারেস্ট’ হয়েছে। বেলা দেড়টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেন ডাক্তাররা। আর বিকেল পাঁচটার কিছু সময় পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ‘চাচার শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত যন্ত্রপাতি খুলছেন ডাক্তাররা। এরপর মরদেহ বুঝিয়ে দেবে,’ বলছিলেন মারুফুল ইসলাম। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ জননেতা তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ রোগের সঙ্গে লড়ছিলেন। দেশ-বিদেশের নামী হাসপাতালগুলোতে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর তিনি ঢাকার বাসায় থাকাবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইদিনই তাকে ভর্তি করা হয় পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতালে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন ১৩ অক্টোবর তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অ্যাপোলোতে ডাক্তাররা তাকে নীবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। ওই সময়ই ‘তরিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে’ বলে গুজব রটে যায়। যদিও দুই-তিনদিনের মধ্যে ডাক্তাররা আশার বাণী শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বেশ ভালো আছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। একপর্যায়ে তাকে আইসিইউ থেকে স্থানান্তরও করা হয়েছিল। কিন্তু ফুসফুসে ইনফেকশন, কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত তরিকুল ইসলাম এর পর আর হাসপাতাল ছাড়তে পারেননি। অবশেষে আজ বিকেলে তিনি ভক্ত-অনুসারীদের কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন।
তরিকুল ইসলাম অ্যাপোলোতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু টিএস আইয়ুব, আবুল হোসেন আজাদসহ যশোর থেকে যাওয়া নেতাকর্মীরা নিয়মিত ভিড় করেন অ্যাপোলো হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পরিবারের সদস্যরা আর হাতেগোনা কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে পারেননি। বিএনপি নেতারা বলছেন, তরিকুল ইসলামের মরদেহ আজই হস্তান্তর করা হবে। এরপর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার নামাজে জানাজা, দাফন প্রভৃতির দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।