অন্ধকারে বাংলা চলচ্চিত্র,বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প অবক্ষয়ের পথে কেন ??

শুভাষীস কর (চলচ্চিত্র শিল্পী) শিল্প-সংস্কৃতি একটা দেশের আয়না স্বরূপ। কোন একটা দেশের সংস্কৃতির পরিচয় মেলে তার শিল্প, সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। শিল্প-সাহিত্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসও এক সময় বেশ গৌরবময় ছিল আমাদের বাংলা । বেশ কিছু অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে ঐ সময়ে, যার কিছু কিছু জগত বিখ্যাত। সময়ের পরিক্রমায় গত এক দশকে বাংলা চলচ্চিত্র তার জৌলুস হারিয়ে আজ জীর্ণ শীর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বলা বাহুল্য, আজ পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটের রাণু মন্ডল তার ঐশ্বরিক ক্ষমতার বলে রাণাঘাট থেকে মুম্বাই পারি দিলেন । কিন্তু একবার কেউ ভেবে দেখেছেন বাংলা এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র ১৮৮৬ সালে হীরালাল সেনের পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র বা বিজ্ঞাপনি "কুসুমকুমারী" অভিনিত "জবাকুসুম" আলতা থেকে সূত্রপাত, কিন্তু এটা সকলের অজানা । তবে আজ কেন আমাদের অধিকাংশ পরিচিত চিত্র পরিচালকরা দক্ষিণী বা মুম্বাই চলচ্চিত্রকে নকল করেন । কারণ যে পরিচালকদের আপনারা চেনেন তারা আসলে বর্তমান রাজ্যের শাসকদলের পোষিত floor contractor বলতে পারা যায় syndicate এর দালাল মাত্র । যে সকল চলচ্চিত্র পরিচালক কাজ করতে চাইছেন তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে FCTWEI বা federation । কিন্তু কেন ? তা এখনো অজানা । EIMPDA ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার ডিরেক্টরস্ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিমল দে'র কথায় FCTWEI এর কোন সংবিধান বা সাংবিধানিক অধিকার আইনত নেই তাও বাহুবল প্রয়োগ করে চলেছেন বিশ্বাস ব্রাদার্স ও অপর্ণা ঘটক । কিন্তু কেন, তাও অজানা । চলচ্চিত্র পরিচালকরা একজন সৃজন শীল শিল্পী এদের কোন রাজনৈতিক রং থাকে না , এনারা 'ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ' , যিনি তার ক্যারিশ্মায় প্রযোজক নিয়ে আসেন তার নিজস্ব কল্পনাকে পর্দায় দর্শকদের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য । সেই পরিচালক ও প্রযোজকের দরুন কয়েকটি পরিবারের পেটে অন্ন সংস্থান হয় । সেই পরিচালকদের রাজনৈতিক ও অনৈতিক ভাবে আয়ত্ব করতে চায় ফেডারেশন । অহেতুক অতিরিক্ত ম্যানপাওয়ার জোর করে নিয়োগ করা কোন ছোট ছবি বা বড় ছবির ক্ষেত্রে, নিজস্ব পোষিত অনভিজ্ঞ লোকদের কাজে জোর করে নিয়োগ করা , এই সকল কারনে বাংলা চলচ্চিত্রের অবক্ষয়ের কারন বলে মনে করেন 1970 সালে তৈরি EIMPDA এর সাধারন সম্পাদক ও অধিকাংশ চিত্র পরিচালকরা । ফেডারেশনের অঙ্গুলীহেলনে কলাকুশলীরা যে সরকারী মেডিক্ল্যাম পায় তার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে পরিচালকদের । ফলে পরিচালকরা মহামান্য উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচারে দারস্থ হন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেশন আদালতে হলফনামা এখনো জমা করতে পারেনি । এই মুহুর্তে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তার থেকে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আপামর চলচ্চিত্র দর্শকরা