আমফানের দাপটে বিপর্যস্ত প্রায় গোটা কলকাতা

আজ বাংলা করোনা মহামারির মাঝে গতকাল আসা ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে প্রায় ওলটপালট হয়ে গিয়েছে সমগ্র কলকাতা। এর মধ্যে হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে সবথেকে মারাত্মক ছিল এই ঝড়ের প্রভাব। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চলবে থাকবে এই ঝড়ের দাপট। বুধবার মাঝ রাত পর্যন্ত কলকাতায় এই ঝড়ের দাপট ছিল প্রায় ৭০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ঝড় থেমে গেলেও বৃহস্পতিবার সারা দিন দফায় দফায় হবে বৃষ্টি। গতকাল সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল কলকাতায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপট।

বুধবার বেলা তিনটের পর থেকে ঝড়ের দাপট বাড়তে শুরু করে কলকাতায়। এক সময় তা ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে পৌঁছে যায়। মূলত পূর্ব কলকাতার উপর দিয়ে ঝড় হলেও গোটা কলকাতা এবং সংলগ্ন শহরতলি তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, কলকাতার প্রায় প্রতিটি রাস্তাই গাছ অথবা বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক বাড়ির জানলা দরজার ক্ষতি হয়েছে। সল্টলেক থেকে গড়িয়াহাট জল ঢুকেছে একতলার ঘরে। বহু জায়গায় গাড়ির উপর গাছ পড়েছে। বেশ কিছু পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে বাড়ির ঝুলন্ত বারান্দা। এই পরিস্থিতিতে দুপুর থেকেই শহরের প্রতিটি ফ্লাইওভার বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ঝড় পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত তা খোলা হবে না।

এরই মধ্যে বুধবার রাতে গঙ্গায় জোয়ার আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ নিকাশি নালার মাধ্যমে জল বেরোতে না পারায় অনেক জায়গা জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়িঘর, গাছপালার ক্ষতি ছাড়াও গোটা কলকাতা জুড়ে ইলেকট্রিক ট্রান্সফর্মার ফাটতে শুরু করেছে। ঝড়ের দাপটে দিকে দিকে শর্টসার্কিট হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন আতসবাজি ফাটার মতো আগুন বার হচ্ছে ট্রান্সফর্মার বক্স থেকে। কোথাও বা তীব্র শব্দে তা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ পর্ষদকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এই মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষেও দ্রুত কোথাও পৌঁছনো মুশকিল হচ্ছে। তাই সকলকেই অপেক্ষা করতে হবে। ট্র্যাফিক সিগন্যাল, ল্যাম্প পোস্ট সব ভেঙে পড়েছে। একই অবস্থা গঙ্গার উল্টো দিকে হাওড়ার। গঙ্গা এতটাই ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে যে সমস্ত ফেরি যোগাযোগ এ দিন সকাল থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে।

বুধবার সকালেই কলকাতায় যে সব এলাকায় পুরনো বাড়ি আছে, সেখানকার লোকেদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আপাতত কাউকেই ফেরানো হবে না। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেছেন প্রতিটি এলাকার খবর নেওয়া হয়েছে এবং সকলকে সতর্ক থাকার আবেদন করা হয়েছে। ১৭৩৭ সালে শেষবার এমন ঝড়ের দাপট দেখেছিল কলকাতা। এরপর পশ্চিমবঙ্গে বহু ঝড় এলেও সরাসরি তা কলকাতাকে আক্রান্ত করেনি। আয়লার সময় কার্যত সুন্দরবন ধ্বংস হলেও তার প্রভাব তেমন পড়েনি কলকাতার উপর কিন্তু তাতেই বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল প্রায় গোটা শহর। কিন্তু বুধবার যা ঘটলো তা সম্ভবত এর আগে দেখেনি কলকাতা।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!