কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, প্রত্যেক বুথে রাজ্য পুলিশ চেয়ে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, প্রত্যেক বুথে রাজ্য পুলিশ চেয়ে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

 বিরোধীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে এবার ভোট হবে বাংলায়। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে রাজ্য পুলিশ থাকবে না বলেই জানিয়েছে কমিশন। আর তাতেই আপত্তি তৃণমূলের। শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দাবি জানান কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি প্রতি বুথে রাজ্য পুলিশকেও রাখতে হবে।  প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, নাজিমুল হক, প্রতিমা মণ্ডল এবং সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া যশবন্ত সিনহা।

কমিশনের কাছে তাঁরা জানান, এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাষা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তাই প্রতি বুথে কমপক্ষে এক জন করে রাজ্য পুলিশ রাখতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে আগেই ঘোষণা করেছে কমিশন। সেই মতো রাজ্যের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো হবে এবং ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও রাজ্য পুলিশ থাকবে না বলেও কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

এর জন্য ৭২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যে রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। কমিশন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, 'একে ভাষা বোঝা যায় না, তার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক বা রুট মার্চ করা দেখে ভয় পেয়ে যান গ্রামের মানুষ।' ফলে সমস্ত বুথে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে এতে ভোটারদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহুয়া জানান, বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন।

প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মহুয়া জানান, সমস্ত কেন্দ্রে ভিভিপ্যাট রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়ে ফলোআপ বৈঠক করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। অন্য দিকে, তৃণমূল কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাষাগত সমস্যার কথা বললেও বিজেপি তা মানতে নারাজ। রাজ্য বিজেপি-র মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমি যতটুকু জানি, যে সমস্ত অফিসার ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, তাঁরা প্রায়ই সকলেই হিন্দি বোঝেন।

আসলে ভোটে অশান্তি করার জন্য রাজ্য পুলিশ দিয়ে নির্বাচন করতে চাইছে তৃণমূল। রাজ্য পুলিশ দিয়ে ভোট হলে কারচুপি করতেও সুবিধা হবে। এর আগের নির্বাচনগুলিতে যা আমরা দেখেছি। তাই আমরা এই দাবির বিরোধিতা করছি।’’ কমিশন সূত্রে খবর, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয়, পাঁচ রাজ্যের ভোটেই ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এলাকা চিহ্নিতকরণ, রুটমার্চ, গন্ডগোল নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করবে রাজ্য পুলিশ।