ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যায় আমেরিকাকে পেছনে ফেলছে কানাডা

আজবাংলা   মার্কিন মুলুক যতই কড়াকড়ি করার চেষ্টা করুক, কানাডা কিন্তু ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য দেশের দরজা আরও উন্মুক্ত।  কানাডা (Canada) উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত একটি দেশ। এটার দশটি প্রদেশ ও তিনটি অঞ্চল আটলান্টিক থেকে প্যাসিফিক এবং উত্তরে আর্কটিক সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত, যা এটিকে মোট আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর দেশে পরিণত করেছে। ফ্রান্স দীর্ঘ সাত বছরের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলস্বরূপ ১৭৬৩ সালে উত্তর আমেরিকায় তাদের সব উপনিবাস ইংরেজদের কাছে ছেড়ে দেয়। ১৮৬৭ সালে, মৈত্রিতার মধ্য দিয়ে চারটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ নিয়ে দেশ হিসেবে কানাডা গঠন করা হয়।  ১৯৮২ সালে জারীকৃত কানাডা অ্যাক্ট অনুসারে, দশটি প্রদেশ এবং তিনটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত কানাডা সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আইনগত রাজ্যতন্ত্র উভয়ই মেনে চলে। রাষ্ট্রের প্রধান রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কানাডা দ্বিভাষিক (ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা দুটোই সরকারি ভাষা) এবং বহুকৃষ্টির দেশ।   গ্লোবাল ট্যালেন্ট সিস্টেম (জিটিএস) প্রোগ্রামটিকে স্থায়ী প্রকল্পের রূপ দেওয়ার মাধ্যমে সে দেশে বিদেশিদের নির্ঝঞ্ঝাট এবং দ্রুত কাজ সুযোগ করে দিয়েছে প্রশাসন। একাংশের ধারণা, এর জেরে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে  ভারতীয়রা।তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে কানাডা মোট যত পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি দিয়েছিল, তার প্রায় ৪২ শতাংশ গিয়েছিল ভারতীয়দের কাছে। সে দিক থেকে দেখলে, এই জিটিএস প্রোগ্রামের স্থায়ীকরণ ভারতীয়দের কানাডায় চাকরি ও পাকাপাকি বসবাসের সুযোগ আরও বাড়াবে। বিগত ২০১৯ সালে কানাডায় অভিবাসনে সংখ্যার ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকেরা প্রথম ছিল। মোট ৮৫ হাজার ৫৮৫ ভারতীয় নাগরিকে গত বছরে কানাডায় অভিবাসী হিসেবে এসেছে। চীনা নাগরিকেরা ছিল দ্বিতীয় স্থানে। গত বছর ৩০ হাজার ২৬০ জন চীনা নাগরিক কানাডায় অভিবাসী হিসেবে এসেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিলিপাইন, এ দেশ থেকে ২৭ হাজার ৮১৫ অভিবাসী হয়েছে। নাইজেরিয়া রয়েছে চতুর্থ স্থানে, সে দেশ থেকে ১২ হাজার ৫৯৫ জন অভিবাসী হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমেরিকা। অভিবাসীদের স্বপ্নের এই দেশ থেকে ১০ হাজার ৮০০ জন তাদের দেশ ছেড়ে কানাডায় অভিবাসী হয়েছে। কানাডায় ভারতীয়দের অভিবাসন বৃদ্ধি কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী পিটার রেখাই ফোর্বস সাময়ীকিকে বলেন, ‘মার্কিন গন্তব্য থেকে তরুণ ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের কানাডায় নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে দেশটির সরকার। আর এর কারণ মূলত আমেরিকাতে এইচ-১ বি ভিসাপ্রাপ্তি ও নবায়ন এবং মার্কিন স্থায়ী অভিবাসনে নির্ভরযোগ্য পথ সন্ধানের চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আইনের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে।’ঘটনা হল, জিটিএস প্রোগ্রামের মাধ্যমে যদি কোনও নিয়োগকারী সংস্থা তার কর্মীর জন্য কাজ করার আবেদন জানায় তাহলে তা দু'সপ্তাহের মধ্যেই ছাড়পত্র পেয়ে যায়। সেই প্রোগ্রামের স্থায়ীকরণ হয়ে যাওয়াটা আক্ষরিক অর্থেই সেই সংস্থা ও কর্মী দু'পক্ষের কাছেই সুখের খবর। বিশেষত সেই সব ভারতীয় যাঁরা অঙ্ক, বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তির মতো বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন মুলুকে পড়ে রয়েছেন গ্রিন কার্ডের আশায়, তাঁদের কাছে কানাডার এ হেন সুযোগ আক্ষরিক অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কানাডা এমন করল কেন? আসলে জাস্টিন ট্রুডোর দেশে প্রযুক্তিক্ষেত্রের এখন বাড়বাড়ন্ত। ফলে সে দিকে দক্ষ কর্মীরও প্রবল চাহিদা রয়েছে। ২০১৭ সালে যখন 'পাইলট প্রজেক্ট' হিসেবে জিটিএস চালু হয়েছিল, তখন থেকে ইতিমধ্যেই ওই প্রোগ্রামের আওতায় ২০০০ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের বাজেটে কানাডিয়ান নিয়োগকারীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা দেশীয় ও বিদেশিদের জন্য আরও ৪০ হাজার নতুন চাকরি তৈরি করবেন। সে দেশের অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ হুসেন বলেন, 'আমরা গোটা দুনিয়া থেকে বিশ্বব্যাপী কৌশলের মাধ্যমে সবচেয়ে দক্ষ মানুষজনকে এখানে টেনে আনতে পেরেছি।' প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্তাদেরও দাবি, বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী কর্মীগোষ্ঠী তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। সেই দিক থেকে জিটিএস অনেকটাই সাহায্য করবে। এই প্রোগ্রামের দু'ধরনের ক্যাটেগরি রয়েছে। ক্যাটেগরি 'এ' এবং ক্যাটেগরি 'বি'। ক্যাটেগরি 'এ'তে মূলত সেই ধরনের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি রয়েছে যেগুলি স্টার্ট-আপ যার 'আপওয়ার্ড গ্রোথ প্যাটার্ন' রয়েছে। কিন্তু ক্যাটেগরি 'বি'-এর ক্ষেত্রেই কর্মীর অভাব। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ডেভিড ক্রফোর্ড বললেন, 'জিটিএস-এর আওতায় কোনও কর্মী সর্বোচ্চ ২ বছরের জন্য ওয়ার্ক পারমিট পেতে পারেন। আমরা দেখেছি অনেকেই পাকাপাকি ভাবে থেকে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন এবং সে দিক থেকে দেখলে এই কাজের অভিজ্ঞতা অনেকটাই সুবিধা করে দিতে পারে।' যেহেতু অলিখিত হিসেব অনুযায়ী, ভারতীয়দের থেকেই এ হেন আবেদন বেশ নিয়মিত জমা পড়ে, তাই জিটিএসে সবচেয়ে সুবিধা ভারতীয়দের, ধারণা অনেকের।