ঘরোয়া উপায়ে ধূমপানের অভ্যাস কাটিয়ে উঠুন

ঘরোয়া উপায়ে ধূমপানের অভ্যাস কাটিয়ে উঠুন

আজবাংলা   মহামারী করোনার মত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এসেও ধূমপায়ীদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাপী অনেক মানুষই এই নেশা ছাড়তে চেয়েও বার বার ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। আবার অনেকে একেবারে ধূমপান ছাড়ার পর থেকেও ছ’মাস বা এক বছর বা বছর তিনেক কাটানোর পরও ফের ধূমপানের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েছে, এমনও অনেকে আছে। সম্প্রতি করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও বিশ্বব্যাপী একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সমীক্ষায় দেখা যায়, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ধূমপায়ীদের সংখ্যাই অনেক অনেক বেশি।

এখন বিশ্বে অনেক রকমেরই নেশা ছাড়ানোর পদ্ধতি বেরিয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে সেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকরী হয় না। তবে, এমন কিছু সাধারন ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যা ধূমপানের নেশা ছাড়াতে খুবই কার্যকরী। আসুন দেখে নেওয়া যাক কী কী ঘরোয়া উপায়ে দ্বারা আপনি ধূমপানের নেশা থেকে মুক্তিলাভ করতে পারেন।

১} আদা: ধূমপানের নেশা ছাড়াতে চাইলে আদার ব্যবহার করুন। আদা চা বা কাঁচা আদা নিয়মিত খেলে ধীরে ধীরে ধূমপানের ইচ্ছে কমে যাবে। আর ধূমপানের ইচ্ছে হলে যদি এক টুকরো কাঁচা আদা মুখে দেওয়া যায় তাহলে ধূমপানের ইচ্ছা কমে যাবে অনেকটাই। ২} মধু: মধু বেশ কিছু ভিটামিন, উত্সেচক এবং প্রোটিন শরীর থেকে নিকোটিন বের করে দেওয়ার পাশাপাশি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকেও অনেক নিয়ন্ত্রণে রাখে। এরফলে নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমানে মধুর মাধ্যমে ধূমপান ছাড়তে কোনও অসুবিধাই হবে না।

৩} আঙুরের রস: ধূমপানের ফলে নিকোটিনের মাধ্যমে জমতে থাকা টক্সিন বেরিয়ে গেলে, তবে ফুসফুসের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, ধূমপানের ইচ্ছাও কমতে শুরু করে। আর আঙুরের রস ফুসফুসকে টক্সিন মুক্ত করতে সাহায্য করে। ৪} লঙ্কার গুঁড়ো: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নানাভাবে যদি নিয়মিত লঙ্কা গুঁড়ো খাওয়া যায়, তাহলে ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ধূমপান করার ইচ্ছাও কমতে থাকে। এক গ্লাস জলে অল্প পরিমাণ (এক চিমটে) লঙ্কার গুঁড়ো ফেলে দিয়ে সেই জলটি পান করলে, সেক্ষেত্রে দারুন উপকার পাবেন।

৫} মূলো: ১ গ্লাস মূলোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে দিনে দু'বার করে নিয়মিত খেলে ধূমপানের ইচ্ছা একেবারেই কমে যায়। শুধু ধূমপানের অভ্যাসই নয়, যে কোনও ধরনের নেশামুক্তির ক্ষেত্রে মুলো দারুনভাবে কাজ করে। এই পদ্ধতিগুলি জানার পরও একটা কথা মাথায় রাখতে হবে। তবে, মাথায় রাখা উচিত যে কোনও নেশা ছাড়ার জন্য চাই মনের জোর এবং প্রচুর পরিমানে ধৈর্য।