কলকাতায় বসেই ভুয়ো কোম্পানি খুলে বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

কলকাতায় বসেই ভুয়ো কোম্পানি খুলে বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

আজবাংলা      ভুয়ো কোম্পানি খুলে ৩৮ কম্পিউটার বসিয়ে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণা কলকাতায় বসেই। ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রতারণার পর এবার মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার অভিযোগে মানিকতলা থেকে ৫ জনকে ধরল কলকাতা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে ‌মানিকতলা থানার পুলিশ টেক রাইজ ইআরপি সলিউশনস (‌ওপিসি)‌ প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে হানা দেয়। কলসেন্টার চালানোর কোনও অনুমতি তাদের ছিল না। ভুয়ো ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ফোন করে এরা পরিচয় দিত, একটি সফটঅয়্যার সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানির তারা কর্মী।


পুলিশ শেখ আলাউদ্দিন ওরফে বিনোদ, সাহিল আলম, হেমন্তকুমার প্রসাদ, সুমিত পাল এবং অঙ্কিত জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে। এদের গড় বয়স ২২। এরা সবাই ছাত্র। জানা গেছে, এদের মধ্যে একজন নাকি ৭৮ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেছে।

সিআইটি রোডে অফিস খুলেছিল। ৩৮টি কম্পিউটার খুলে এরা ফোনে নানারকম কথা বলত। বলা হত, একটি সফটঅয়্যার মোবাইলে ব্যবহার করুন। তাদের কম্পিউটারের যাবতীয় সমস্যা মিটিয়ে দেবে খুবই সামান্য খরচে। সেজন্য ওই সফটঅয়্যারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।

এরপর যখনই টাকা মার্কিন নাগরিক পাঠাতেন, সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তির যাবতীয় ব্যাঙ্কের তথ্য প্রতারকরা সফটঅয়্যারের মাধ্যমে জেনে নিত এবং টাকা তুলে নিত। লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ। কত টাকা প্রতারণা করা হয়েছে তা দেখা হচ্ছে।


তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ভুয়ো কোম্পানির আবার ৫ জন মালিক। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, মালিকের নির্দেশেই এসমস্ত জালিয়াতি তারা করত। মালিকদের নাম হল, ঊষা আগরওয়াল, তুষার সিং, সাহিল মালিক, আমান বাজোরিয়া, অনুরাগ আগরওয়াল।

ওই অফিসে হানা দিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ধৃত অঙ্কিত জয়সওয়াল নিজেই তথ্য প্রযুক্তি কর্মী। মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে আইনগত যে যে কাজকর্মের বিষয় থাকে তা সেই সামলাত। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৭টি ধারা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে ৪টি ধারায় মামলা শুরু হয়েছে।‌