জঙ্গলমহলে কেউ খেতে পায় না বিশ্বাস করেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজবাংলা ঝাড়গ্রাম সোমবার থেকেই পাঁচদিনের জেলা সফর শুরু করলেন মমতা। কোর কমিটির বৈঠক থেকেই এই সফরের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এই সফরে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া সেরে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন বর্ধমান। পশ্চিম বর্ধমান ও দুর্গাপুর সফর সেরে ফিরবেন কলকাতা। এই সফরে একদিকে যেমন প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর, সঙ্গে রয়েছে জনসভাও।সোমবার জামবনির প্রশাসনিক সভায় প্রথম থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক ইস্যু উত্থাপন করে তিনি আক্রমণ করেন গেরুয়া শিবিরকে।  সিপিএম-এর সমর্থকরাই জামা পালটে বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, আদিবাসীরা খেতে পায় না, এ কথা তিনি বিশ্বাস করেন না। সম্প্রতি শবর পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু নিয়ে বিরোধীরা সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছিল।   একইসঙ্গে আদিবাসীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছড়ানোর দায় যদি তাঁর দলের কারও উপর এসে থাকে, তার দায় সরকার বা তৃণমূল কংগ্রেস নেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ”এটা যার দায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবেই সেটা মেটাবেন। একইসঙ্গে প্রশাসনকেও হুঁশিয়ার করেছেন, রেশন পেতে আদিবাসীদের কোনও সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে সরকার।”  মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘লালগড়ের আদিবাসীদের জন্য মাসে মাথাপিছু ৮ কেজি চাল ও ৩ কেজি গম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই অনুপাতে পরিবারপিছু চাল-গম মিলিয়ে প্রায় ৫৫ কেজি খাবার দেওয়া হচ্ছে। আমি জানি চাল ওরা বিক্রি করে দেয়। পেট ভরে ভাত খান। সুস্থ থাকুন। ভাল থাকুন।’ সরকারের এই প্রকল্পের কথা গ্রামে গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীদের জানানোর আবেদনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দিই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। দলীয় নেতৃত্ব দ্রুত শবরদের ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের খাদ্য-বাসস্থান সুনিশ্চিত বলে জানায়। প্রশাসনও একই রিপোর্ট দেয়। সঙ্গে জানায়, শবরদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের পাওনা চাল বিক্রি করে দেয়। সেই টাকায় মদ খেয়ে নেয়। শরীর খারাপের পর হাসপাতালে ভরতি করে দিলেও পালিয়ে যায় শবররা। সেই প্রেক্ষিতেই ঝাড়গ্রামের সভা থেকে তাঁদের পেট ভরে ভাত খাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।