৩৭০ ধারা বিলোপে ভারত সরকারের পাশে কংগ্রেস নেতা ও কাশ্মীরের যুবরাজ করণ সিং

কাশ্মীরের যুবরাজ করণ সিং
কাশ্মীরের যুবরাজ করণ সিং

আজবাংলা জম্মু-কাশ্মীরের শেষ সদর-ই-রিয়াসত তথা প্রথম রাজ্যপাল পাল করন সিং বলেন,’কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে একাধিক ইতিবাচক দিক রয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে লাদাখ। এটা অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত।’ ১৯৬৫ সালে সদর-ই-রিয়াসত পদে থাকা সময় লাদাখের উন্নতির জন্য পদক্ষেপ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন করন সিং। তাঁর মতে, নতুন করে জম্মু-কাশ্মীরের সীমা নির্ধারণ হলে ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতার বণ্টনে ভারসাম্য আসবে। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে যাতে তাড়াতাড়ি পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায়, সেই লক্ষ্যে চেষ্টা করা উচিত বলেও মনে করেন ৮৮ বছরের কংগ্রেস নেতা।জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করেছে মোদী সরকার। রাজ্যসভায় ও লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ হয়ে গিয়েছে প্রস্তাব। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে তৈরি হতে চলেছে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন লাদাখবাসী। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিএম ও কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ দাবি করেছেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ৩৭০ বিরোধিতায় যেভাবে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস, তা জনমানসে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে দলকে সতর্ক করেছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, দীপেন্দ্র হুডা, আরপিএন সিং ও জিতিনপ্রসাদের মতো তরুণ নেতারা।কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে কথা বলতে শুরু করেছেন একাধিক বিরোধী নেতা। এমনকী কংগ্রেসের মধ্যেও এই নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। সেই বিরোধিতার জোয়াড়ে হঠা‌ত্‍ করে যেন ভাঁটা পড়তে শুরু করেছে। এমনকী কদিন আগে যে যুবরাজ সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেই করণ সিংও এখন একটু একটু করে মানতে শুরু করেছেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ভালো দিকও রয়েছে।কাশ্মীরের যুবরাজ করণ সিং জানিয়েছেন কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে কিছু ভালো দিকও আছে। এতোদিন পর লাদাখের বাসিন্দারা স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক অধিকার তৈরি হবে। একইভাবে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারাও অনেক বেশি গুরুত্ব পাবেন।এতদিন আইনের জটে উপত্যকার রাজনৈতিক নেতারা তেমন ভাবে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ্যে আনতে পারতেন না। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হয়ে যাওয়ার পর সেকাজ অনেকটাই ইতিবাচক হবে। এমনকী কাশ্মীরের বাসিন্দারাও স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ করতে পারবেন।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!