বিজেপির বিরুদ্ধে রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।

Congress MP Gaurav Gogoi blamed the Rafal contract
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।

আজবাংলা পুরুলিয়াঃ   কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পর এবার পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস পর্যবেক্ষক তথা সাংসদ গৌরব গগৈ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘রাফাল যুদ্ধবিমান’ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন।আজ পুরুলিয়ায় এসে জেলা কংগ্রেস ভবনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি জানান,কেন্দ্রের মোদী সরকার রাফাল বিমান কেলেঙ্কারিকে আড়াল করে প্রমান করে দিয়েছেন তিনিও এই কেলেঙ্কারির ভাগিদারl জানা যায়, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের সাথে মোট ১২৬ টি রাফাল যুদ্ধ বিমান ক্রয় করতে চুক্তি সম্পাদন করে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত সরকার। এই চুক্তি অনুসারে প্রতিটি যুদ্ধ বিমানের ত্রুয় মূল্য ঠিক করা হয় ৫২৬ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।যার মধ্যে ১৮ টি যুদ্ধ বিমান তৈরী অবস্থায় হস্তান্তর করার কথা হয়।আর বিমান তৈরীর কারিগর কৌশল হস্তান্তরিত করা সমেত বাকি ১০৮ টি বিমান তৈরী করার বরাত পায়।সেই হিসেবে ৩৬ টি রাফাল বিমান যুদ্ধ বিমানের জন্য দেশের রাজকোষ থেকে খরচ করার কথা হয় মোট ১৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। পরে ১০ এপ্রিল ২০১৫ তারিখ বিজেপি সরকার পূর্বের চুক্তি বাতিল করে ফরাসী সরকারের সাথে নতুন করে রাফাল চুক্তি সম্পাদন করে।যাতে বিমানের সংখ্যা ১২৬ থেকে কমিয়ে ৩৬ টি করা হয়।বিমান প্রতি দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৭০.৭০ কোটি টাকা।সেই হিসেবে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধ বিমান ক্রয় করতে ৬০ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা খরচ হবে বলে খবর। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন,চুক্তি হবার মাত্র ১২ দিন আগে যাদের কারখানার কোনো অস্তিত্ব নেই সেই রিলায়েন্স ডিফেন্স লিমিটেড কোম্পানির হাতে বিমান তৈরীর বরাত দেয় বিজেপি সরকার।এছাড়াও এই বিমান তৈরীর জন্য তাদের হাতে দেওয়া হয় ৩০ হাজার কোটি টাকা।পূর্বের চুক্তির তুলনায় অতিরিক্ত বাড়তি ৪১ হাজার ২০৫০ কোটি টাকা ভারতের জনগণের করের টাকা অতিরিক্ত খরচ কার স্বার্থসিদ্ধি করতে হলো এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই ধরনের আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পাতায় লাইক করুন

 

 

তার আরও অভিযোগ,ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার কথা লঘু করে ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে এই চুক্তি সম্পাদন করেছে।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।এদিনের এই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন,কেন্দ্রে বিজেপি সরকার এবং রাজ্যে তৃণমূল সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে আন্দোলনে নামা হবে।মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করে গগৈ বলেন,নিজেকে স্বঘোষিত চৌকিদার বলে নীরব মোদী,বিজয় মালিয়ার মতো ধনী জনদের ভালো করছেন আর গরিবের কিষান,সাধারণ ব্যবসায়ী খেটে খাওয়া মানুষ না খেতে পেয়ে মরছেন।নিজের ইচ্ছায় যখন যা ইচ্ছে ঘোষণা করে দিচ্ছেন।এই বিজেপি সরকারকে ঠেকাতে গোটা দেশ জুড়ে কংগ্রেস সংগঠনকে আরও মজবুত করতে কোনায় কোনায় গিয়ে বৈঠক,মিটিং,মিছিল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাছাড়া বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন রাজ্য জুড়ে যেভাবে ভোট লুঠ এবং বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,স্বামী বিবেকানন্দ,নেতাজি সুভাষ চন্দ্রের মতো গুনি ব্যক্তিদের মতো জায়গায় এই ধরণের ঘটনা অতি নিন্দনীয়।তার অভিযোগ, প্রথমে বাম সরকার এবং পরে তৃণমূল সরকার – দুজনে মিলে রাজ্যকে লুটে নিচ্ছে।রাজ্যে আজ একটিও শিল্প নেই, যুবকরা বেরোজগার হয়ে পড়ছেন এর জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। আগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেস কি তৃণমূলের সাথে জোট করতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে গৌরব গগৈ বলেন,পার্টির হাই কমান্ড এই ব্যাপারে যা নির্দেশ দেবেন তাই হবে।