বর্ষা-শীতে তাপমাত্রা কমলেই বাড়বে করোনার দাপট!

বর্ষা-শীতে তাপমাত্রা কমলেই বাড়বে করোনার দাপট!
আজ বাংলা: গোটা বিশ্বে মারণ থাবা বসিয়েছে করোনা। এহেন অবস্থায় আরও খারাপ খবর শোনালেন বিশেষজ্ঞরা। ভুবনেশ্বরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজি এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকাল সায়েন্সেস-এর যৌথ উদ্যোগে করা একটি গবেষণায় দাবি যে, বর্ষা এবং শীতকালের পারদ কমলে করোনা সংক্রমণ আরও দ্রুত গতিতে ছড়াবে। জানা গিয়েছে, আইআইটি ভুবনেশ্বরের স্কুল অফ আর্থ, ওশান অ্যান্ড ক্লাইম্যাটিক সায়েন্স বিভাগের বিনোজ ভি, গোপিনাথ এন এবং লান্ডু কে-র সঙ্গে এই গবেষণায় সামিল হয়েছিলেন AIIMS ভুবনেশ্বরের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিজয়িনী বি এবং বৈজয়ন্তীমালা এম। তাঁদের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে শীত পড়তে শুরু করলে ভারতে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করবে দ্রুত গতিতে। এক গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, ‘মানব সভ্যতার ইতিহাসে 1কলকাতা ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ প্যানডেমিকের মতো সংকট কখনও দেখা দেয়নি। যে হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে সারা দুনিয়ায়, তাতে একদিকে যেমন মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন, তেমনই ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অর্থনীতির উপরেও। ২১ শতকে যে সব রেসপিরেটরি ভাইরাল প্যানডেমিক দেখা দিয়েছিল সেগুলির সংক্রমণের হার এবং ভয়াবহতার ক্ষেত্রেও আবহাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।’ এই গবেষণায় বিশেষ ভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর ধরন এবং এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ২৮টি 12ে কত জন সংক্রমিত হয়েছেন। গবেষক বিনোজ ভি-র মতে তাপমাত্রা বাড়লে কমেছে সংক্রমণের হার। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আছে বলেই দাবি করা হয়েছে এই গবেষণায়। দেখা গিয়েছে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে সংক্রমণের হার কমেছে ০.৯৯ শতাংশ এবং সংক্রমণ ছড়াতে সময় লেগেছে ১.১৩ দিন। এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। একই গবেষণায় দেখা গিয়েছে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বাড়লে কমে করোনার গ্রোথ রেট এবং সংক্রমণ ছড়াতে সময় লাগছে ১.১৮ দিন। গবেষকরা এও জানিয়েছেন, এই সমীক্ষা চূড়ান্ত আর্দ্রতার সময় বর্ষার শুরু থেকে শীত পড়ার মধ্যে যেহেতু করা হয়নি, তাই আরও কিছু তথ্যপ্রমাণ এখনও লাগবে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। এই গবেষণায় সোলার রেডিয়েশনের প্রভাবকেও খতিয়ে দেখা হয়েছে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোয়। বিনোজ ভি-র দাবি গবেষণায় দেখা গিয়েছে পৃথিবীর বুকে যত বেশি সোলার রেডিয়েশন এসে পড়েছে তত কমেছে সংক্রমণের সংখ্যা এবং বেড়েছে সংক্রমণ ছড়ানোর সময়।