কাশ্মীর জুড়ে অনির্দিষ্ট কালের কার্ফু, মধ্যরাতে মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলির সবনেতা গৃহবন্দি

আজবাংলা ইতিমধ্যে কাশ্মীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট এবং কেবল পরিষেবা। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন জানাচ্ছে, গন্ডগলের আশঙ্কায় এই নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে মধ্যরাত থেকেই। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সেখানকার রাস্তায় সেনার টহলদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে থমথমে পরিস্থিতি গোটা কাশ্মীরজুড়ে। রবিবার সন্ধ্যায় একটি সূত্রে শোনা যায়, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে কথা অবশ্য স্বীকার করেনি সরকার। তবে সূত্রের খবর, শোপিয়ানের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে থানা পাহারা দিচ্ছে বিএসএফ। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। ফিরিয়ে আনা হয়েছে যুব ক্রিকেটারদেরও। কিছু যে ঘটতে চলেছে, সে ইঙ্গিত অবশ্য মিলছিল ক’দিন ধরেই। অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে দিয়ে হঠাৎই কাশ্মীরে বাড়ানো হয়েছিল আধাসেনার বহর। সম্ভাব্য জঙ্গি হানার খবর পেয়েই কি এই ব্যবস্থা, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে সরকারের, জল্পনা জমছিল তা নিয়েই। ফেরানো শুরু হয়েছিল পর্যটকদের। রাজধানীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিনভর দফায় দফায় বৈঠকে উৎকণ্ঠার পারদ চড়ছিল কাশ্মীরে।কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু অজিত দোভালই নয়, সেই বৈঠকে ছিলেন আইবি প্রধান অরবিন্দ কুমার, র’-এর অফিসার সামন্ত গোয়েল. স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবা ও অন্যান্যা আধিকারিকরা।কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল না, কেন্দ্র ঠিক কী পদক্ষেপ করতে চলেছে। রবিবার রাতে দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হল। গৃহবন্দি হয়েছে প্রাক্তন বি‌ধায়ক সাজ্জাদ লোনও। গ্রেফতার সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামি এবং কংগ্রেস নেতা উসমান মজিদ। এর পর কী হবে, এই উদ্বেগেই এখন থমথমে উপত্যকা। অনির্দিষ্ট কালের জন্য জারি করা হয়েছে কার্ফু।