ইতালিতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু, ৬২৭ লকডাউন নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফর্নিয়া

আজবাংলা  নিউইয়র্ক      বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ১১ হাজার। একই সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।এক দিনেই রেকর্ড ৬২৭ জনের মৃত্যু হলো ইতালিতে। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল। লকডাউন পরিস্থিতি আরো কঠোরভাবে কাযকর করতে এবার সেনাবাহিনী তলব করছে সরকার। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন। যেখানে করোনাভাইরাসের প্রাথমিক এপিসেন্টার চীনের উহানেও একদিনে এতো মৃত্যু ঘটেনি। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যকে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। মানুষের জীবনের জন্য পরিহার্য এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। ২০ মার্চ (শুক্রবার) সকালে নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কুমো ‘লকডাউন’ এর নির্দেশ ঘোষণা দেন। এ নির্দেশনা স্থানীয় সময় ২২ মার্চ (রবিবার) রাত ৮টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আদেশ লঙ্ঘনকারীদের জরিমানা গুনতে হবে। আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়া প্রদেশ পুরোপুরি তালাবন্দি করে ফেলার কথা ঘোষণা করেছেন সেখানকার গভর্নর। আগামী দু’তিন সপ্তাহে চিকিৎসা সরঞ্জামে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নিউ ইয়র্কে। সেখানে জরুরি-পরিষেবার সঙ্গে জড়িত কর্মীদের ছাড়া বাকি সব পেশার মানুষকে বাড়িতে থাকতে বলছেন গভর্নর। রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’-এর প্রধান ডেভিড বেসলিও আক্রান্ত হয়েছেন কোভিড-১৯-এ। গত কাল এ খবর জানার পরে তিনি যাঁদের যাঁদের কাছাকাছি গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁদের সকলকে চিহ্নিত করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতালিতে প্রথম সংক্রমণের ঘটনা ঘটে গত মাসে দেশটির লম্বার্দে অঞ্চলে। এখন পর্যন্ত এ এলাকাতেই সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং এখানে মৃত্যুর হারও বেশি। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া। যথেষ্ট চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর অভাবে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারাও গেছেন। এক মাস আগে ইউরোপের ইতালিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এরইমধ্যে সেখানে মৃত্যু নতুন এই ভাইরাসের উৎসস্থল চীনকে ছাড়িয়ে গেছে।মার্কিন বিদেশ দফতর দুনিয়া জুড়ে আমেরিকার সব দূতাবাস এবং কনসুলেটে ভিসা পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আগামিকাল থেকে কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ করে দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আমেরিকা-প্রবাসী প্রভাবশালী ভারতীয় চিকিৎসকদল ফেডারেল ও স্টেট গভর্নমেন্টকে অনুরোধ করছেন, গোটা মহাদেশেই লকডাউন করা হোক। তাঁরা চাইছেন, নিজেই বাড়িতে আলাদা থাকুন নাগরিকেরা। আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা এখনও ২১৮। আক্রান্ত ১৫,৫০০ জন।