দীপাবলির আলোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় ভারতের।

India win the Twenty20 series against West Indies
টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় ভারতের।

আজবাংলা কালীপুজোর রাতে রোহিতের দাপটে প্রথমে ব্যাট করে টিম ইন্ডিয়া তুলেছিল ১৯৫ রানের পাহাড়। যেখানে রো-হিটের অবদান ১১১ রান। মাত্র ৬৬ বলে ভারত অধিনায়কের এই ইনিংস যেন রূপকথায় ইতিহাস। এ দিন রেকর্ড করার জন্য দরকার ছিল মাত্র ১১ রান। ভারতের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে সব থেকে বেশি রানের রেকর্ড। এত দিন এই রেকর্ড ছিল বিরাট কোহালির। ৬২ ম্যাচে ২১০২ রান করেছেন তিনি। এ দিন রোহিতের ১১১ রান ভেঙে দিল কোহালির সেই বিরাট রেকর্ড। সাতটা ছয় আর আটটি চারের সাহায্য সাজানো রোহিতের এই ইনিংস একই সঙ্গে আরও একটি রেকর্ড গড়ে দিল। তিনিই এই মুহূর্তে একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি টি২০তে চারটি শতরান করে ফেললেন। দুই ভারতীয় ওপেনারের ব্যাটে ভর করে এ দিন ১৯৫ রান তোলে ভারত। কিন্তু, এই বিশাল রান তাড়া করার সামান্যতম রসদ দেখা গেল না ক্যারিবিয়ানদের মধ্যে। এই সফরে যে দুই ব্যাটসম্যানকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ— সেই হোপ এবং শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে শুরুতেই ধাক্কা দিয়ে দিলেন খলিল আহমেদ। জাহির খান-আশিস নেহেরার উত্তরসূরি কেন তাঁকে ভাবা হচ্ছে, সে কথা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন এই বাঁ হাতি সিমার। ক্যারিবিয়ানদের মুড়িয়ে দেওয়ার বাকি কাজটা সহজেই করে ফেললেন ভুবনেশ্বর-বুমরা-কুলদীপরা। মঙ্গলবার লখনউয়ের ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী একানা স্টেডিয়ামে দিওয়ালি উত্‍সবকে আরও ঝলমলে করে তুললেন তিনি একাই। তিনি রোহিত শর্মা। যিনি শুধু ব্যাট হাতে অনন্য নজিরই গড়লেন না, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ভারতকে সিরিজ জিতিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের দিওয়ালির উপহারও দিলেন। মাত্র ১২৪ রানে আটকে গেল ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে এই রান তুললেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা। তাই হার-জিতের উর্ধ্বে গিয়ে অন্যভাবে এ ম্যাচ উপভোগ করছিলেন দর্শকরা। যেখানে বিনোদনের কেন্দ্রে ছিলেন ভারত অধিনায়ক। ক্রিকেটীয় ভাষায় বলে, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। রোহিতের চওড়া ব্যাট যেন বারবার সে কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। টি-টোয়েন্টিতে চারটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতরানের মালিক হয়ে গেলেন তিনি। পাশাপাশি নেতা হিসেবে এই ফরম্যাটে তিনি ছাড়া আর কারও জোড়া সেঞ্চুরি নেই।