এবার সিবিআইয়ের জেরার মুখে পরতে চলেছেন জেলা পুলিশ সুপার

CBI
সিবিআই

আজবাংলা  অসমর্থিত সূত্রে খবর এবার সিবিআইয়ের জেরার মুখে পরতে চলেছেন পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ। বর্তমানে মালদা জেলার পুলিশ সুপার পদে আছেন। এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। সূত্রের খবর, সারদা মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিবিআই তদন্তকারী অফিসাররা। সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে ২০১৩ সাল নাগাদ। সে সময় বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি (ডিডি) ছিলেন অর্ণব ঘোষ।সিবিআই সূত্রের খবর  সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন আর দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের যে কল ডাটা রেকর্ড (সিডিআর) তাঁর নেতৃত্বাধীন সিট, সিবিআইয়ের হাতে দিয়েছিল, তার থেকে বাস্তবের ফারাক অনেকটাই। প্রকৃত রেকর্ড, সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের থেকে সংগ্রহ করে নিয়েছেন। সেটা রাজীব কুমারকে দেখাতেই তিনি কার্যত ভেঙে পড়েন। নিজেকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত গোটা দায় চাপিয়েছেন অন্য এক পুলিশকর্তার ঘাড়ে। সেই পুলিশকর্তা হলেন, বিধাননগর কমিশনারেটের তত্‍কালীন গোয়েন্দাপ্রধান অর্ণব ঘোষ।এই নাম ফাঁস করে, রাজীব কুমার সিবিআই কর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি শুধু অর্ণব ঘোষকে সাহায্য করেছিলেন মাত্র। সিট’র তদন্ত রাজীব কুমার করেননি! তা হলে করলেন কে? নিজেকে রক্ষা করার জন্য কাকে সামনে নিয়ে আসলেন এই দুঁদে আইপিএস? মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে সল্টলেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সুদীপ্ত সেন ও তাঁর স্ত্রী পিয়ালি সেনের যৌথ লকার ভেঙে নথি সরানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সুদীপ্ত সেন ও পিয়ালি সেনের ব্যাঙ্কের লকার ইডি’র হাত থেকে বাঁচাতে কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছিল পুলিশ? কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের রক্ষাকবচ থাকায় এখনও অর্ণব ঘোষকে হাতে পায়নি সিবিআই। কিন্তু, বুধবারই হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি। সিবিআই আশাবাদী, বুধবার অর্ণব ঘোষের সেই রক্ষাকবচ হাইকোর্ট প্রত্যাহার করে নেবে। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে কলকাতার নগরপালকে জেরার অনুমতি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের উলটোপথে হাঁটবে না। সিবিআই সূত্রে খবর, মঙ্গলবার নগরপালের বয়ান দু’দফায় রেকর্ড হয়েছে। সারদা ছাড়াও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে রোজভ্যালি, টাওয়ার গ্রুপের মতো অন্যান্য চিটফান্ড মামলা নিয়েও। তদন্তকারীদের মধ্যে রোজভ্যালি মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাজম শেরপাও হাজির ছিলেন।  এ দিনই শিলং ছাড়ার আগে সিবিআইয়ের কাছে লিখিত ভাবে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা সারদা মামলায় অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, তিনি সিট-এর হেফাজতে থাকার সময় তাঁকে যত জন পুলিশ অফিসার জেরা করেছিলেন, তাঁরা সকলেই বলেছিলেন যে, রাজীব কুমারের নির্দেশেই জেরা করা হচ্ছে। কিন্তু রবি ও সোমবার সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের সময় কুণালের মুখোমুখি বসে রাজীব দাবি করেন, তিনি হোটেল থেকে ওই অফিসারদের ফোন করেছিলেন। তাঁরা এমন কিছু বলার কথা অস্বীকার করেছেন। কুণালের প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ-পর্বে রাজীব কী ভাবে এই ধরনের ফোন করেন?