স্যোশাল মিডিয়ায় ডি.এল.এড এর প্রশ্নপত্র ভাইরাল,তদন্তের আশ্বাস জেলাশাসকের

নিজস্ব সংবাদদাতা , দক্ষিণ দিনাজপুর, : জেলা জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি ডিএলএড কলেজ খুলেছে,পরীক্ষার আগেই ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইলে ঘুরছে প্রশ্নপত্র।সোমবার ডিএলএড দ্বিতীয় বর্ষের শেষ পরীক্ষা পেডাগোজি (সিসি ০৪) বিষয়ের প্রশ্নপত্র সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষার্থীদের কাছে পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় তিন ঘন্টা আগে মোবাইলে চলে আসে পরীক্ষা পত্রের স্ক্যান করা কপি। সেই মতো পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের সাথে নিজেকে তৈরী করে পরীক্ষা দিতে চলে যান।

আশ্চর্যজনক ভাবে পরীক্ষার শুরুর আগে মোবাইলে যে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীরা পেয়েছে ,হুবুহু সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা হয়।যদিও এবিষয়ে জেলা স্কুল দপ্তরের কোনো নজর নেই ,এবিষয়ে কিছু জানেন না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক।বেসরকারি কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে এবিষয়ে জানালেও সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে যান।জেলার বেসরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।জেলা জুড়ে ডিএলএড দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ জেলা জুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার চক্র সক্রিয় হয়ে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। যারা পড়াশোনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিএলএড পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা সার্বিক মূল্যায়ন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ। জেলা জুড়ে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে কান পাতলেই পরীক্ষার হলে দেদার সুবিধের কথা শোনা যাচ্ছে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে। জেলার এক বেসরকারি কলেজে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ এনামুল শেখ বলেন প্রশ্নপত্র মোবাইলে ঘুরছে আমার জানানেই ,পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে মোবাইলের প্রশ্ন মিল থাকলে তা পরীক্ষার পরে দেখতে হবে ,সে বিষয় আমি কিছু জানিনা সমস্ত বিষয় জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক বলবেন। যদিও পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় তিনি স্কুলের বাইরে ছিলেন ভেতরে কি চলছে তা তার জানা নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক মৃনালকান্তি রায় বলেন আমাদের জেলায় ২০ টি বেসরকারি ডিএলএড কলেজ রয়েছে ,তার মধ্যে জেলা জুড়ে ৭ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা চলছে। মোবাইলে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র যদি ছাত্র ছাত্রী পেয়ে যায় খুবই দুৰ্ভাগ্যজনক ঘটনা ,মোবাইলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় আমরা তেমন ভাবে কিছু করতে পারিনা তবে এইসব সাইবার সেলের কাজ। প্রতিটি থানায় আমাদের প্রশ্নপত্র রাখা থাকে সেখান থেকে পরীক্ষার আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সমস্ত কলেজে বিশেষ ভাবে নজর রেখে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। জেলাশাসক নিখিল নির্মল বলেন জেলা জুড়ে রাজ্যের সাথে ডিএলএড পরীক্ষা চলছে ,প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে কিভাবে ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইলে চলে আসছে বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা শিক্ষা দপ্তরে বিষয়টি জানাচ্ছি।সোমবারের ডিএলএড পরীক্ষার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জেলার শিক্ষারত্ন শিক্ষক ডাঃ সত্যজিৎ সরকার বলেন আগামীদিনের শিক্ষকেরা যারা শিশুদের আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে , বাধ্যতামূলক ডিএলএড পরীক্ষা দেবার আগেই যদি প্রশ্নপত্র পেয়ে তৈরী উত্তর নিয়ে পরীক্ষা দিতে যান তবে শিক্ষা ব্যবস্থার কি হাল হবে ? আগামী প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটে পরে যাবে কি শিক্ষা শিখবেন ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষকদের কাছে। প্রশ্নের মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষৎ।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!