শান্তিপুরের সহায় বৃদ্ধার এপিক ,আধার ছাড়াই আন্তরিকতায় মিললো"ভালোবাসার ঘর"

মলয় দে আজবাংলা শান্তিপুর নদীয়া শান্তিপুরের রাজপুত পাড়া লেনের বাসিন্দা 85 বছর বয়স্কা সহায় সম্বলহীন সরস্বতী গুই। দরজা জানালা বিহীন পোড়ো এক ঘরে বাস করতেন ভাঙ্গাচাল দিয়ে জল পড়ে ভেসে যেত ঘর। যত রক্ত মলমূত্র ত্যাগ করতে হতো শৌচাগারের অভাবে। একমাত্র কন্যা কোনমতে পাত্রস্থ করেছিলেন অনেকদিন আগে। দারিদ্রতার কারণে সেও আমাকে দেখতে পারে না। আত্মীয় পরিজন বলতে কেউই নেই। পাড়া প্রতিবেশী সকলে ভালো বাসলেও জন্ম পরিচয় পত্র না থাকায় কোন সুরাহা করে দিতে পারেননি। এলাকারই এক তরুণ কৃষ্ণেন্দু ভঙ্গ এ দুঃখ-দুর্দশার ভিডিও পোস্ট করেন সহযোগিতার জন্য।বিশিষ্ট সমাজসেবী বিশ্বজিৎ রায় এবং সুব্রত মৈত্র বিষয়টি খেয়াল করেন শান্তিপুরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতা নেন। শৌচাগার, পুরাতন ঘরের ছাউনি বদল, জরাজীর্ণ ঘরের নতুন রং করা, বিছানা তোষক বালিশ চাদর, দরজা জানালার পর্দাএমনকি আগামী দিনের খাদ্য যোগান চিকিৎসা ব্যবস্থা সমস্ত টাই করেন দীর্ঘ এক মাসের প্রচেষ্টায়। অবশেষে আজ এক মানবিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সেঁজুতি প্রকৃতি বিদ্যাশ্রম, নবজাগরণ, স্মাইল, সেতু, প্রয়াস, আলো, তক্ষশীলা, হিউম্যান রাইটস, প্রতিবন্ধন সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উপস্থিতিতে উদ্বোধন হলো এই নতুন গৃহের। এলাকারই সুবংশীবাদক ইসরাইল কারিকর তার অসাধারণ সুর পরিবেশনে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল এক স্বর্গীয় পরিবেশ। উক্ত অনুষ্ঠানে এলাকার কাউন্সিলর বিভাস ঘোষ, মরমী সংস্থার প্রতিমা মজুমদার, সাংবাদিক সত্য নারায়ন গোস্বামীর বক্তব্যে উঠে এসেছিল নতুন প্রজন্মের ইতিবাচক দিক। এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো,তারা রীতিমতো ঘটা করে গৃহপ্রবেশ এর আয়োজন করেছিলেন। দুটি বকুল গাছ এবং একটি তুলসী গাছ রোপন করা হয় ঘরের পাশে। বৃদ্ধা সরস্বতী দেবীর ইচ্ছা অনুসারে বাড়ির নাম দেয়া হয় "ভালোবাসার বাড়ি"। তিনি জানান "এত বছর কষ্ট করার পর ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন, তাইতো আজ আমি শত পুত্রের জননী।"