আরও ছ’মাসের জন্য বাড়ানো হল ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ।

Extended for six months, the term of the Sixth Pay Commission
বাড়ানো হল ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ।

আজবাংলা   ২০১৫-র অক্টোবরে কমিশন গঠনের পর এ নিয়ে চার ধাপে মোট তিন বছর কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হল। এখনও বেশ কিছু শুনানির কাজ বাকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতবছরের নভেম্বরে অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বাধীন ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ একবছর বাড়ানো হয়েছিল। যার মেয়াদ ছিল ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০১৯-এর জানুয়ারি থেকে এক কিস্তি মহার্ঘ ভাতা পাওয়া কথা রয়েছে রাজ্য সরকারী কর্মীদের। ১৮ শতাংশ করে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিল নবান্ন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অর্থ দফতরের কর্তারা এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন।সপ্তম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। খুব তাড়াতাড়ি বাড়তে পারে সর্বনিম্ন বেতন। আর তাতে অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে আর্থিকভাবে কেন্দ্রের কর্মীদের তুলনায় রাজ্য সরকারি কর্মীরা রীতিমতো লজ্জাজনক জায়গায়। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ায় সব স্তরের কর্মীর মূল বেতন ২.৫৭ গুণ বেড়েছে। ন্যূনতম মূল বেতন ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। মূল পেনশন বেড়েছে ২.৫৭ গুণ। পুরনো মূল বেতন ও ১২৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা মিলে তৈরি হয়েছে নতুন মূল বেতন। ফলে মোট বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশের কাছাকাছি।  ক্ষমতায় আসার পরেই বেতন কাঠামো বদল নিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতির কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেই সময়ে বলেন, নতুন বেতন কমিশন বসিয়ে তার সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি নেই। কিন্তু তাদের শর্ত, এ বাবদ যে বাড়তি আর্থিক বোঝা রাজ্যের ঘাড়ে চাপবে, কেন্দ্রকেই তার দায় নিতে হবে। কেন্দ্র যে দাবি কোনওভাবেই মানবে না, সেটা বুঝে পরে অবশ্য ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠন করে রাজ্য।  কনফেডারেশনের তরফে সুবীর সাহা বলেন, ‘‘যে ভাবে দিনের পর দিন বেতন কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে, সরকারি কর্মীদের দাবিদাওয়ার প্রতি কোনও সহানুভূতি এই সরকারের নেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মী এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও পঞ্চায়েত-পুরসভার কর্মী-সহ মোট ১০ লাখের মতো কর্মী এবং তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’’ বিরোধী সংগঠনগুলোর তরফ থেকে আসা এই সব মন্তব্যের চেয়েও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে কিন্তু ধরা দিয়েছে তৃণমূলের নিজস্ব কর্মী সংগঠনের এক প্রবীণ নেতার প্রতিক্রিয়া। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের মেন্টর গ্রুপের আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী এ দিন বলেছেন, ‘‘বেতন কমিশনের মেয়াদ আবার বৃদ্ধি করার এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অনভিপ্রেত। যাঁরা বেতন কমিশন চালাচ্ছেন, তাঁরা আদৌ বেতন কমিশনের কাজকর্ম জানেন কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।