বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক গাঁদা ফুল রোজগারে পথ দেখাচ্ছে চাষিদের

বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক গাঁদা ফুল রোজগারে পথ দেখাচ্ছে চাষিদের

আজবাংলা    চাষিরা ধান, পাট, আখ, গম ও বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষাবাদ করে সারা বছর তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু এসবের বাইরে কিছু ফসল আছে যা চাষ করে চাষিরা ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে পারে।

ফুল তার মধ্যে অন্যতম সম্ভাবনাময় ফসল।বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে বিভিন্ন প্রকার ফুলের চাষ হচ্ছে। গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ইত্যাদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করে প্রচুর সফলতা অর্জন করেছে এ রাজ্যের ফুল চাষিরা।

এক সময় ফুলের উৎপাদন ছিল বাড়ির উঠোন কিংবা ছাদের কোণায় টবের মধ্যে সীমাদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে সৌখিন উৎপদকের গন্ডী পেরিয়ে ফুলের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। ফুলের চাষ এবং অন্যান্য ফসলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ফুল চাষই অধিক লাভজনক।বর্তমানে ঋতু ভিত্তিক তিন জাতের গাঁদা ফুলের চাষ করা হয়।

এগুলো হলো গরম, বর্ষা এবং শীত এই তিন জাতের।চাইনিজ , রাজগাঁদা, আফ্রিকান ও ফরাসি জাতের গাঁদা আমাদের দেশে বেশি চাষ হয়। রঙ ভেদে গাঁদার জাত হচ্ছে হলুদ, লাল, কমলা, গাঢ় খয়েরি, লাল হলুদের মিশ্রণ ইত্যাদি। আফ্রিকান জাতের গাছ সোজা ও লম্বা, ৩০-১০০ সেমি লম্বা হয়। ফুল কমলা, হলুদ ও গাঢ় খয়েরি রঙের ছিটা দাগযুক্ত হয়। ফরাসি গাঁদার গাছ খাট ও ঝোপালো, ১৫-৩০ সেমি লম্বা হয়।

ফুল আকারে ছোট,  প্রচুর ধরে ও রঙ লাল। কমলা সুন্দরীর গাছ খুব শক্ত। ফুল গাঢ় কমলা। শাখা প্রশাখা বেশি হওয়ায় ফুল বেশি ধরে। ফুলের আকার ৪.৫ থেকে ৫ সেমি। অনেক দিন পর্যন্ত ফুল ধরে। প্রতি গাছে ৫৫-৬০ টি ফুল পাওয়া যায়। রোগ সহনশীল।ফুলের বাজার সবসময় একরকম থাকেনা। প্রতিদিনই প্রায় বাজার উঠানামা করে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে গরম জাতীয় গাছ থেকে ৭৫/৮০ দিনের মধ্যেই ফুল সংগ্রহ করা সম্ভব।

প্রথম অবস্থায় ফুলের আকার কিছুটা ছোট হবে। গাছটা যখন পরিপূর্ণ হবে তখন ফুলের আকার বড় হবে। আবার শেষের দিকে আকার ছোট হয়ে যাবে। যে ফুলগুলো পরিপূর্ণভাবে ফুটে যাবে সেগুলোকেই বিক্রির জন্য তুলতে হবে। ফুল তুলতে হবে ভোরে এবং রোদ বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই তোলা শেষ করতে হবে।

তোলার পর ফুলগুলোকে ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে ছড়িয়ে রাখতে হবে। তারপর মালা গেঁথে বিক্রি করতে হবে। মালা তৈরির কাজে যুক্ত মহিলাদের রোজগার হয় ভালো। প্রায় দু’ফুট লম্বা ২০টি মালা নিয়ে হয় এক গোছা। এক গোছা মালা তৈরি করতে পারলে এক জন ১০ টাকা মজুরি পান।

সংসারের কাজ শেষে অবসর সময়ে কাজ করেই এক এক জন ১০-১৫ গোছা তৈরি করতে পারেন। আরও বেশি সময় দিলে কেউ কেউ গড়ে ২০গোছা পর্যন্ত পর্যন্ত মালা গাঁথতে পারেন। সে হিসেব ধরলে দিনে দু’শো টাকা পর্যন্ত রোজগার হতে পারে। সন্ধ্যা ৭টার পরে চাষিরা ফের মালাগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

তাঁদের কাছ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মালা নেন।মালা তৈরির কাজে যুক্ত মহিলারা জানালেন, এই সময়   কাজ করে তাঁদের কেউ কেউ গড়ে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতে পেরেছেন।চাষিদের এক বিঘা জমিতে ফুল চাষের সম্ভাব্য আয়  ৩০০০০ টাকা। তাই বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক গাঁদা ফুল রোজগারে পথ দেখাচ্ছে চাষিদের।