ড্রাগন ফল | চাষি দের নতুন দিশা দেখাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

ড্রাগন ফল | চাষি দের নতুন দিশা দেখাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

আজবাংলা    বিদেশি এই ফলের ভারতের বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। খোলা বাজারে এমনকি শপিং মলে পাচশো টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এই ফল। ফণীমনসা গাছের মতো দেখতে হলেও ড্রাগন ফ্রুট এক ধরনের লতানো গাছ। একটু বড় হলেই এর অবলম্বন দরকার।যে কোনও নার্সারি পাশাপাশি সরকারি নার্সারিতে ড্রাগন ফ্রুটের চারা পাওয়া যায়। গোবর সার দিয়ে মাটি তৈরি করে চারা বুনে দিন।কিছুটা বড় হলে অবলম্বনের প্রয়োজন বুঝে মাচা তৈরি করে দিন। দু-আড়াই বছর পর দেখবেন ঝুলে রয়েছে সুস্বাদু ড্রাগন ফ্রুট।

অপ্রচলিত চাষে মালদা জেলার কৃষকদের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারেন চাঁচল-১ নম্বর ব্লকের মোবারকপুর গ্রামের কৃষক নাজিমুদ্দিন। ধান, পাট, সরষের বদলে তিনি এখন মেতেছেন ড্রাগন ফলের চাষে। নিজের ১৫ কাঠা জমিতে নতুন এই চাষ তাঁকে লাভের মুখ দেখিয়েছে। বর্তমানে তিনি এই চাষ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলাপরিষদও। তাঁর খেত পরিদর্শন করে জেলাপরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রফিকুল হোসেন জানিয়েছেন, নাজিমুদ্দিন এই চাষ তাঁর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান। এক্ষেত্রে তাঁরা কৃষকদের সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। নাজিমুদ্দিনের চাষে উৎসাহী এলাকার অন্য কৃষকরাও।

নাজিমুদ্দিন বলেন, আমরা কৃষক পরিবারের মানুষ। ছোটো থেকে চাষবাসই শিখে এসেছি। তবে এখন ধান কিংবা পাট চাষ করে তেমন লাভ হয় না। আমার খবরের কাগজ ও কৃষি পত্রিকা পড়ার নেশা। সেখান থেকেই এই ফল চাষের কথা জানতে পারি। মেয়ের সাহায্য নিয়ে যোগাযোগ করি বসিরহাটের একটি সংস্থার সঙ্গে।সেখানে যাই। কথা বলে এই ফল চাষ সম্পর্কে জানতে পারি। অবশেষে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে সেখান থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে নিজের ১৫ কাঠা জমিতে লাগাই। প্রথমে চিন্তায় ছিলাম, এখানে এই ফলের চাষ হবে কিনা। তাই সিমেন্টের পিলার করে চাষ করার কথা বলা হলেও আমি প্রথমে বাঁশের পোল তৈরি করে সেই পোলের চারধারে চারটি করে চারা লাগাই।

তিনি বলেন, ১৫ মাসের মধ্যেই ফল ধরে পেকে যায়। ফলের দামও বেশ ভালো। তবে প্রথম বছর এলাকার লোকজনকে এই ফল খাওয়ানোর জন্য মাত্র ২৫০ টাকা কিলো দরে জমিতে ফল বিক্রি করি। যদিও সেই ফল খোলাবাজারে ৪৫০ টাকা কিলো দরেও বিক্রি হতে দেখেছি। একেকটি ফল প্রধানত ২০০ থেকে ২৫০ গ্রামের হয়েছিল।তবে কিছু ফল ৫০০ গ্রামেরও ছিল। প্রথমে আমি ১৭৬টি পোলে এই ফল চাষ করেছি। এখন এই চাষের জমি আরও বাড়ানোর কথা ভাবছি। এই ফলের অনেক গুণ রয়েছে। এই ফল খেলে অনেক রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। চিকিৎসকরাও এখন এই ফল খেতে বলছে। আমি চাই, এই ফলের চাষ এলাকায় আরও বাড়ুক।

রঞ্জিৎ সাহা নামে এলাকার এক চাষি বলেন, আগে আমরা ধান, পাট, গম, সরষে ইত্যাদি ফসল চাষ করতাম। ড্রাগন ফলের কথা বই আর খবরের কাগজে জেনেছিলাম। কিন্তু সেই ফল চোখে দেখিনি। নাজিমুদ্দিন সাহেব সবসময়ই নতুন নতুন চাষ করে থাকেন।এর আগে তিনি কুলের চাষ এই এলাকায় প্রথম করেছিলেন। হঠাৎ দেখি, তিনি নতুন প্রজাতির চারাগাছ এখানে এনে লাগালেন। জানলাম, সেটা নাকি ড্রাগন ফলের চারা। আমাদের সামনেই গাছ বড়ো হল। ফলও ধরল। খেয়ে দেখলাম, খুব সুস্বাদু ফল।

আমিও ভাবছি এই ফলের চাষ করব। তবে এই চাষের জন্য সরকার যদি সাহায্য করে, তবে অনেক কৃষকই এই চাষে এগিয়ে আসবে। নাজিমুদ্দিন সাহেবের ড্রাগন ফলের চাষ নিয়ে উৎহিত জেলাপরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রফিকুল হোসেনও। তিনি তাঁর খেত পরিদর্শন করে বলেন, নাজিমুদ্দিন সাহেব ড্রাগন ফল নিয়ে কাজ করছেন।সেকথা শুনে তাঁর খেত দেখতে এসেছি। এই চাষ করে তাঁর যথেষ্ট লাভও হচ্ছে। এই ফলে ফুড ভ্যালু রয়েছে। এতে ফ্যাট না থাকলেও প্রচুর ক্যালোরি রয়েছে। বাজারেও এই ফলের বেশ ভালো দাম। আমরা তাঁকে এই চাষে সরকারিভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। এই এলাকা শুধু নয়, মালদা জেলায় এই চাষ বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। জেলাশাসক ও জেলাপরিষদের সভাধিপতিও এই ফল চাষ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন।